ঢাকা
logo
প্রকাশিত : September 21, 2026

কাজিপুরে দুই লাখ মানুষের নদী পারাপারে দুর্ভোগের নাম ভেটুয়াঘাট

আবদুল জলিল, কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের কাজিপুর ও সদর এবং জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার প্রায় ১৫টি ইউনিয়নের অন্তত দুই লাখ মানুষের যাতায়াতে জনদুর্ভোগের নাম ভেটুয়া ঘাট। যমুনার অভ্যন্তরে জেগে ওঠা চরের ভেটুয়া নদীর ওপর একটি সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এ তল্লাটের মানুষজন। বারবার পরিদর্শন ও আশ্বাস মিললেও এখনো সরকারিভাবে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

যমুনার একটি শাখা নদী ভেটুয়া। নদীটির পশ্চিমে সিরাজগঞ্জের সদর ও কাজিপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়ন এবং পূর্বে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়া এই নদী ব্যবহার করে টাঙ্গাইলের ভূয়াপরের কিছু মানুষ ব্যবসা বাণিজ্য করে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই নদীর উপর নেই কোন সেতু।

কাজিপুরের মনসুরনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুল হাসান গোলজার বলেন, ‘ভেটুয়াঘাট হয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, বাজার এবং সরকারি অফিসে যান।”

এই শাখা নদীর পূর্ব পাশের মানুষের নাগরিক সুবিধায় যাওয়ার জন্য নিয়মিত নৌকায় নদী পার হতে হয়। ব্যবসায়ী ও ক্রেতা বিক্রেতাগণ এই নদী পার হয়ে চরাঞ্চলের লক্ষ লোকের সমাগমের স্থান নাটুয়ারপাড়া হাটে যেতে হয় বলে স্থানীয়রা জানান। প্রতিদিন দুটি নৌকায় মানুষ, মালামাল ও গবাদি পশু নদীর এপার-ওপার করা হয়। প্রতিটি ট্রিপে সময় লাগে সাত থেকে নয় মিনিট। তবে বর্ষাকালে এই শাখা নদীটির প্রশস্ততা বেড়ে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। সৃষ্টি হয় তীব্র ঘুর্ণাবর্তের। ফলে মাঝে মাঝে নৌকা চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখন প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান ভেটুয়াঘাট সংলগ্ন মুদি দোকানী রফিকুল মাঝি।

ভেটুয়া ঘাটের পূর্বপাড়ে অবস্থিত আলহাজ্ব ফরহাদ আলী কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ভেটুয়া নদী পারাপারের অসুবিধাজনিত কারণে আমার প্রতিষ্ঠানসহ স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বর্ষাকালে ক্লাসে উপস্থিত হতে সমস্যায় পড়েন। তিনি আরও বলেন, উভয় পাড়ের কৃষকরাও তাদের ফসল কাটা এবং পরিবহনে সমস্যায় পড়েন।

গত মাসে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে প্রস্তাবিত স্থানটি পরিদর্শন করেছেন বলে জানিয়েছেন নাটুয়ারারপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বলেন, “নদীর ওপর যদি একটি সেতু নির্মিত হয়, তবে এটি সমস্যার সমাধান করবে। বিশেষ করে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের পরিবহন সুবিধা পাবে।”

একই কথা বলেছেন মাজনাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেনও। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

কাজিপুরের এলজিইডি প্রকৌশলী মো. মুনসুরুল হক বলেন, “এলাকা জরিপ করতে গত মাসে চীনা প্রকৌশলীদল এসেছিলেন। তবে সেতু নির্মাণের বিষয়ে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত নই।”

সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর ও সদরের আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা বলেন, সম্প্রতি চীনা প্রকৌশলীদের একটি বিশেষ দল এলাকাটি পরিদর্শন করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে সেতু নির্মাণের জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram