

পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের নৈনারপার এলাকায় অবস্থিত প্রাচীন তহসিল অফিসটি আজ কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে। একসময়ের জমিদারি শাসনের প্রভাবশালী এই প্রশাসনিক কেন্দ্রটি এখন কেবলই ধ্বংসস্তূপ। অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকা এই স্থাপনাটি সংস্কার করে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামল ও পরবর্তী সময়ে এই ভবনটি ছিল অত্র অঞ্চলের খাজনা আদায় ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র। প্রতিদিন শত শত প্রজারা এখানে ভিড় জমাতেন। খাজনা আদায়, হিসাব-নিকাশ আর কঠোর প্রশাসনিক নিয়মে দিনভর মুখরিত থাকত এই প্রাঙ্গণ। কিন্তু সময়ের আবর্তে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর ভবনটি তার জৌলুস হারায়।
জরাজীর্ণ দালান আর নীরবতা বর্তমানে ভবনটির সেই কোলাহল আর নেই। দীর্ঘদিনের অযত্নে খসে পড়ছে দেয়ালের প্লাস্টার, ইটে ধরেছে নোনা। ভবনের চারপাশ আগাছায় ঢেকে গেছে। স্থানীয়দের মতে, এই ভবনের প্রতিটি ইটের সাথে জড়িয়ে আছে এই অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখ ও সংগ্রামের ইতিহাস। সরকারি তদারকি না থাকায় স্থাপনাটি এখন কেবল অতীতের ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তি জানান, "এই ভবনটি আমাদের এলাকার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানবে না একসময় এখানে কীভাবে শাসনকার্য পরিচালিত হতো।"
ঐতিহাসিকরা মনে করেন, এই প্রাচীন তহসিল অফিসটি কেবল একটি ভবন নয়, এটি একটি জীবন্ত ইতিহাস। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে এটিকে সংস্কার করা হলে তা এই অঞ্চলের শিক্ষা ও পর্যটন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আদমপুর এলাকার বাসিন্দারা মনে করেন, অতি দ্রুত সরকারিভাবে এই স্থাপনাটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করা এবং আধুনিক স্থাপত্যশৈলী বজায় রেখে সংস্কার করা প্রয়োজন। অন্যথায়, ইতিহাসের এই নীরব সাক্ষী চিরতরে হারিয়ে যাবে ধুলিকণায়।
