ঢাকা
১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
দুপুর ২:২৬
logo
প্রকাশিত : মার্চ ৬, ২০২৬

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

মাসুদ রানা, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, পরিবহন শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ। তেলের অভাবে অনেক যানবাহন রাস্তায় নামতে পারছে না, ফলে যাতায়াত ব্যবস্থায়ও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় থাকা চারটি ফিলিং স্টেশনের কোনোটিতেই বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুদ নেই। হঠাৎ এ সংকট তৈরি হওয়ায় তেল নিতে এসে অনেক চালককে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল পাওয়ার আশায় অনেক চালক পাম্পে এসে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, সরবরাহ বন্ধ থাকায় তাদের কাছে কোনো জ্বালানি তেল নেই। ফলে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের।

স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক মারুফ হাসান মুন্না বলেন, কয়েকদিন ধরেই পাম্পে তেলের সংকট চলছে। জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় পাশের কোনো উপজেলায় গিয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

উপজেলার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ঋষিকেশ বলেন, “তেলের দাম বাড়ার আশায় অনেকেই বিক্রি বন্ধ করে রেখেছে বলে মনে হচ্ছে। ডিপোগুলোতে তেল থাকার পরও সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে না।”

স্থানীয় চিকিৎসক আব্দুস সালামও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, “দাম বাড়ার আশায় কিছু ব্যবসায়ী তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

এদিকে জাহিদ হাসান নামে এক যুবক বলেন, “তেল আছে ঠিকই, কিন্তু সুযোগ বুঝে বিক্রি করা হচ্ছে।”

খানসামা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, “পেট্রোল পাম্প গুলে তেল রিজার্ভ রেখে, বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলায় এর আগে এমন তেলের সংকট দেখা যায়নি। হঠাৎ করে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।

ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে ঝোলানো বিলবোর্ডে লেখা রয়েছে—‘তেল শেষ’, ‘পেট্রোল নেই’, ‘অকটেন নেই’। খানসামা ফিলিং স্টেশন মালিক অলেমান জানান, ডিপো থেকে সরবরাহ না আসায় তেল বিক্রি করতে পারছি না। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পুনরায় বিক্রি শুরু করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস ও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবেও জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, এখন থেকে একজন মোটরসাইকেল চালক সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং একটি প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রোল বা অকটেন কিনতে পারবেন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে পরিবহন খাতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই সমস্যার দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram