ঢাকা
১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সকাল ৮:৩৫
logo
প্রকাশিত : মার্চ ৫, ২০২৬

হাতিয়ায় ২য় ধাপে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, লোডশেডিং মুক্ত হবে তো গ্রাহক?

ছায়েদ আহামেদ, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ৫ মেগাওয়াট থেকে ৭ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণের চুক্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)-এর সঙ্গে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দেশ এনার্জি লিমিটেড-এর এ উদ্যোগে গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে লোডশেডিংমুক্ত সেবার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগে কথা বলে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম শুরু হয়। IPP-১-এর কারিগরি বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে টেস্ট প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন, যা বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) শেষ হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সরকার হাতিয়ায় ১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এইচএফওভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেয়। ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তিতে প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৩৮৪ কোটি ৩৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিউবো'কে। এ জন্য হাতিয়া বুড়িরচর ৩ নম্বর ওয়ার্ড হরেন্দ্র মার্কেট সংলগ্ন ১৬ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১৪ দশমিক ০৩ সেন্ট দরে কিনে নিচ্ছে সরকার।

‘হাতিয়া দ্বীপ, নিঝুম দ্বীপ ও কুতুবদিয়া দ্বীপ শতভাগ নির্ভরযোগ্য ও টেকসই বিদ্যুতায়ন’ শীর্ষক এ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ সালের ২৭ জানুয়ারি থেকে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ সুবিধা পেতে শুরু করেন। প্রকল্পের মাধ্যমে হাতিয়ায় তিনটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়।

উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, ছয় লক্ষাধিক মানুষের বসতি এ দ্বীপ উপজেলা মেঘনার খরস্রোতা মোহনা দ্বারা স্থলভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে এর কোনো সংযোগ নেই। পাকিস্তান আমলে পাঁচটি ডিজেল ইঞ্জিন দিয়ে হাতিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলেও পুরোনো ইঞ্জিনগুলো অচল ও দুর্বল হয়ে পড়ায় সরকার নতুন এ প্রকল্প গ্রহণে উদ্যোগী হয়।

সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী, হাতিয়ায় এক লাখ ১২ হাজার ৩২টি খানার বিপরীতে আবাসিক, সেচ ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা ৩৩ হাজার ৫২৭।

ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা জানিয়ে হাতিয়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ এবং বিউবো'র নোয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী সামছুল আরেফিন বলেন, “বর্তমানে ৭ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণের ফলে আশা করছি লোডশেডিং থাকবে না। তবে যে দামে দেশ এনার্জি থেকে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে, তার দ্বিগুণ ভর্তুকি দিয়ে সরকার এ খাত পরিচালনা করছে।”

এদিকে, বাস্তব চিত্র নিয়ে সংশয় রয়েছে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে। হাতিয়া পৌরসভার মুকবুলিয়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আবুল কালাম জানান, রবি ও সোমবার জোহরের নামাজের সময়ও লোডশেডিং হয়েছে। চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী খবির উদ্দিন বলেন, “এখনো মাঝে মাঝে লোডশেডিং দেখা যায়। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম বন্ধ হলে স্থায়ী সমাধান মিলবে বলে আশা করি।”

অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে যখন চাহিদা ছিল ৩ মেগাওয়াট, তখনও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সরকার থেকে ৫ মেগাওয়াটের বিল গ্রহণ করেছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ৫ মেগাওয়াট থেকে চাহিদা এক ইউনিটও বাড়লে মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে ভুগতে হয়েছে গ্রাহকদের । নতুন ৭ মেগাওয়াট চুক্তি অনুযায়ী অনিয়ম না হলে লোডশেডিং থেকে মুক্তি মিলবে বলে ধারণা করছেন গ্রাহকরা।

দেশ এনার্জি লিমিটেডের সিইও মোশাররফ হোসাইন জানান, ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি চার ধাপে কমার্শিয়াল অপারেটিং টেস্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা ৫ মার্চ শেষ হচ্ছে। তৃতীয় ধাপে ১২ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং চতুর্থ ধাপ ২০৩৩ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে লোড বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে সরকার চাইলে টেস্ট প্রক্রিয়া এগিয়ে আনতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাস্তবে ৭ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ কতটা সুফল বয়ে আনবে- সেটিই এখন দেখার অপেক্ষায় স্থানীয় গ্রাহকরা।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram