

সরওয়ার কামাল, মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হতে যাচ্ছে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মানুষের। অবশেষে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ পুনরায় চালু হচ্ছে সিজারিয়ান (অপারেশনের মাধ্যমে প্রসব) ও পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধরনের মেজর অপারেশন সেবা। এই উদ্যোগকে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে জনবল ও কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে সিজারিয়ানসহ বড় ধরনের অপারেশন সেবা বন্ধ ছিল। ফলে জটিল গর্ভবতী নারীসহ গুরুতর রোগীদের জেলা সদর কক্সবাজার কিংবা চট্টগ্রাম শহরে পাঠাতে হতো। এতে সময়, অর্থ ও ঝুঁকি তিনটাই বেড়ে যেত। নতুন করে এই সেবা চালু হওয়ায় সেই চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিজারিয়ান অপারেশন চালুর লক্ষ্যে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) আধুনিকায়ন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি গাইনি কনসালটেন্ট, অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট, মেডিকেল অফিসার, ওটি নার্স ও সহায়ক কর্মীদের দায়িত্ব বন্টন সম্পন্ন হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, জরুরি রক্ত সরবরাহ ও রোগী ব্যবস্থাপনায়ও আলাদা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে একজন গাইনি কনসালটেন্ট ও একজন অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট কর্মরত থাকায় অফিস সময়ের মধ্যে শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত নিয়মিতভাবে সিজারিয়ান অপারেশন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী রেফারেল ব্যবস্থাও আগের চেয়ে আরও সমন্বিত করা হয়েছে।
কেবল সিজারিয়ান নয়, ধাপে ধাপে হার্নিয়া, পাইলস, ফিস্টুলা, সিস্ট ও লাইপোমাসহ বিভিন্ন ধরনের মেজর অপারেশন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সার্জিক্যাল টিম শক্তিশালী করা হবে এবং ভবিষ্যতে সার্বক্ষণিক অপারেশন সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, “মহেশখালী একটি দ্বীপ উপজেলা। এখানে দ্রুত ও নিরাপদ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ও সচেতনতা বাড়লে সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মা ও নবজাতকের ঝুঁকি কমবে এবং সাধারণ রোগীরাও নিজ এলাকায় উন্নত চিকিৎসা পাবেন।
এলাকাবাসীর মতে, এই সেবা কার্যকরভাবে চালু হলে মহেশখালীর স্বাস্থ্যখাতে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হবে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও দরিদ্র রোগীদের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর।
সংশ্লিষ্টদের আশা, ধারাবাহিক তদারকি ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা গেলে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ধীরে ধীরে দ্বীপাঞ্চলের একটি নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হবে।

