

বাগেরহাট প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনই জামানত হারাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের ন্যূনতম সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।
বাগেরহাট জেলা নির্বাচন অফিসার মো. আবু আনছার জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুসারে কোনো প্রার্থী নির্ধারিত ভোটের হার অর্জনে ব্যর্থ হলে তার জমাকৃত জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফলের ভিত্তিতে এ প্রক্রিয়া কার্যকর হচ্ছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট) আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৫২২টি। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ২৯ হাজার ৯৪২ ভোট। নির্ধারিত ভোটসংখ্যা না পাওয়ায় জাতীয় পার্টির স.ম. গোলাম সরোয়ার, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল)-এর আ. সবুর শেখ ও এম. ডি. শামসুল হক, আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি)-এর মো. আমিনুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শেখ মাসুদ রানা এবং এম.এ.এইচ সেলিম জামানত হারাচ্ছেন।
বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট-কচুয়া) আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ২৪৫টি। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ২৮ হাজার ৯৪৯ ভোট। প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শেখ আতিয়ার রহমানের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।
বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে মোট ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৮৯টি। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ২৩ হাজার ২৯৪ ভোট। নির্ধারিত ভোটের হার অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এম.এ.এইচ সেলিম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ জিল্লুর রহমান জামানত হারাচ্ছেন।
বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৮৫টি। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ন্যূনতম ২৬ হাজার ৯৫০ ভোট। প্রয়োজনীয় ভোটসংখ্যা না পাওয়ায় জাতীয় পার্টির সাজন কুমার মিস্ত্রী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ওমর ফারুক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. আ. লতিফ খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী খায়রুজ্জামান শিপনের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জেলার চারটি আসনে বিএনপির চারজন, জামায়াতে ইসলামীর চারজন এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়া বাকি প্রার্থীরা নির্ধারিত ভোটের হার পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন বলে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে।

