

নুরুল ইসলাম আসাদ, উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশাল-২ (উজিরপুর–বানারীপাড়া) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। বৃহস্পতিবার রাতে ১৪০টি ভোটকেন্দ্রের প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে তিনি বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিজয় নিশ্চিত করেন। ধানের শীষ প্রতীকে তাঁর এই জয়কে স্থানীয়ভাবে “অভূতপূর্ব” হিসেবে উল্লেখ করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, সান্টু পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ২৮০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাস্টার আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৭০ হাজার ৭১৯ ভোট। ফলে ৭০ হাজার ৫৬১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির এই প্রার্থী। ভোটের এই ব্যবধান সাম্প্রতিক সময়ে বরিশাল-২ আসনে অন্যতম বড় ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উপজেলা ভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বানারীপাড়া উপজেলার সব কেন্দ্রে সান্টু পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৮৫০ ভোট এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৩২ হাজার ১১৩ ভোট। এই উপজেলায় তিনি ২১ হাজার ৭৩৭ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। বানারীপাড়ায় তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু থেকেই বেশ সক্রিয় ছিল এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গণসংযোগ অব্যাহত রাখেন।
উজিরপুর উপজেলাতেও তাঁর আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। উজিরপুর উপজেলার সব কেন্দ্রে সান্টু পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৩০ ভোট। সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬১৯ ভোট। উজিরপুরে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার মাধ্যমেই তিনি আসনটিতে নিজের সামগ্রিক বিজয় নিশ্চিত করেন। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক জোয়ার লক্ষ্য করা গেছে।
১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনের আগেই সান্টু একাধিক পথসভা, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালান। তিনি উন্নয়ন, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তাঁর নির্বাচনী কৌশল ছিল তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় রাখা এবং ভোটারদের সরাসরি সম্পৃক্ত করা।
এই আসনে মোট ১৪০টি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংগ্রহ করে বেসরকারিভাবে এই ফল ঘোষণা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি অব্যাহত আছে।
ফলাফল ঘোষণার পর বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিপুল উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। সমর্থকরা একে “জনতার রায়ের বিজয়” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে প্রশাসন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বরিশাল-২ আসনে এই বিপুল জয় বরিশাল অঞ্চলের রাজনীতিতে বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। উজিরপুর ও বানারীপাড়া-দুই উপজেলাতেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকা সান্টুর সাংগঠনিক শক্তি ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। এখন আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার অপেক্ষা থাকলেও প্রাপ্ত ব্যবধান তাঁর বিজয়কে কার্যত নিশ্চিত করেছে।

