

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলে দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটরা নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রাথীকে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করেছেন। ভোট কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বেলা ২টার দিকে বগা কেন্দ্রে ধানের শীষে সীলমারা ব্যালট পেপারসহ সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পাপিয়া ও তার স্বামী নুর মোহাম্মদকে আটক করেছে পুলিশ। সরাবাড়ি কেন্দ্রে দুইশত ব্যালট পেপার ছিনতাই করে বিএনপির সমর্থকরা। পরে যৌথবাহিনী ধাওয়া করে ব্যালট পেপার উদ্ধার করে। পরে সেই কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। রতনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুয়াপুর) আসনে ভুয়াপুর উপজেলার নলুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াত ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অর্জুনা মহসিন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিশৃংখলার কারণে এক বিএনপির সমর্থককে আটক করে পুলিশ। গোপালপুর উপজেলায় জামায়াতের প্রার্থী হুমায়ুন কবির বেলা ৩টার দিকে স্থানীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন অনেক কেন্দ্রে জামায়াতের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। মহিলা এজেন্টরাও রেহাই পায়নি। তাদের আটক রেখে জিম্মি করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। গোপালপুর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সম্পাদক ইদ্রিস আলীকে মারপিক করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। উপজেলার ৩৩টি কেন্দ্রে জোর করে ভোট ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহন ও ফলাফল স্থগিতের দাবি জানান তিনি।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সুখীপুর) আসনের সখীপুর উপজেলার বর্গাপ্রতিমা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সোনার তৈরী কেন্দ্রে স্বতন্ত্রপ্রার্থীর এক সমর্থক টাকা বিলি করার সময় ধানের শীষের সমর্থকরা তাকে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে রানাসাল কেন্দ্রে জয়নাল আবেদিন নামে এক জামায়াত কর্মীকে টাকা বিলির অভিযোগে বিএনপির সমর্থকরা মিরপিট করে আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে সোর্পদ করে। পরে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তিন হাজার টাকা জমিরানা করে ছেড়ে দেন। সৈয়দপুর কেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের ছবিসহ ভোটাদের ছিলিপ দেয়া দুই দলের দুইজনকে ৫ হাজার টাকার করে জরিমানা করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ৮টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ১৬ লাখ ৭১ হাজার ১৯৮ জন এবং পুরুষ ভোটার ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৮২২ জন। এবার নতুন ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫২৬ জন।
জেলার ১২টি উপজেলায় ৮টি সংসদীয় আসনে ২৫শ’ পুলিশ সদস্য এবং ১৩ হাজার ৮১৯ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া সেনাবাহিনী ২১শ’ সদস্য, বিজবি সদস্য ৩০১ জন, র্যাব ৮০ জন এবং ব্যাটালিয়ান আনসার ২শ’ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১৬ জন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৬৮ জন এবং জুডিশিয়াল ম্যাষ্ট্রিটেট সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেছেন।
নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার ১ হাজার ৬৩ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৬ হাজার ৪৩১ জন এবং পৌলিং অফিসার ১২ হাজার ৮৬২ জন দায়িত্ব পালন করেন। ভোট গ্রহন শেষে এখন ভোট গননা চলছে। গননা শেষে ফলাফল ঘোষনা করা হবে।
জেলা রির্টানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, জেলায় ৮টি আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোন ধরণের গোলযোগের ঘটনা ঘটেনি। ভোটরা নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রাথীকে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করেছেন। ভোট কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

