

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের খাসিয়ামারা নদীর বাম তীর টিলাগাঁও-গিরিশনগর গ্রাম ঘেঁষে নির্মিত সড়ক-কাম-বেড়িবাঁধটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এখানে এ বছর ফসল রক্ষা বাঁধের কোন প্রকল্প নেই।এতে অরক্ষিত থেকে যাবে কনছখাই হাওর। টেংরাবাজার থেকে টিলাগাঁও রাবারড্যাম পর্যন্ত বিস্তৃত এই বাঁধটি যে কোনো সময় পাহাড়ি ঢল বা অতিবৃষ্টিতে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে টিলাগাঁও গ্রামের ফরিদ মিয়ার বাড়ি থেকে বল্লবপুরীর বাড়ি পর্যন্ত অংশে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে নদীর স্রোতের কারণে মাটি সরে গিয়ে বাঁধের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এতে সামান্য ঢলেই বাঁধ ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হলেও আজ পর্যন্ত টেকসই কোনো সংস্কার হয়নি। বর্ষা মৌসুম এলেই আশ্বাস দেওয়া হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান আর আসে না।
কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে তারা বোরো আবাদে বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। এই সড়ক-কাম-বেড়িবাঁধই এখন তাদের শেষ ভরসা। বাঁধ ভেঙে গেলে টিলাগাঁও, গিরিনগরসহ কনছখাই হাওরের হাজারো একর বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগেও পাহাড়ি ঢলে এই এলাকায় ধান তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে কৃষকদের। শুধু ফসল নয়, এই বাঁধটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বাঁধ ভেঙে পড়লে যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
সচেতন মহলের মতে, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো শক্তিশালীভাবে সংস্কার না করা হলে কনছখাই হাওর অঞ্চলের বোরো উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যা সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ বলেন, 'খাসিয়ামারা নদীর বাম তীরের ফসল রক্ষা বাঁধটি অত্যন্ত জরুরি। এখানে বাঁধ না হলে হাওরের ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে না।'
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাস্টার বলেছেন, টিলাগাঁও থেকে টেংরাবাজার পর্যন্ত সড়কটি সড়ক কাম বেড়িবাঁধে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা না হলে বিস্তীর্ণ এলাকা ও কনছখাই হাওর ঝুকিপূর্ণ থেকে যাবে।
ইউপি সদস্য মাসুদ মিয়া জানান, এখানে ফসল রক্ষা বাঁধের কোন প্রকল্প নেই। এতে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে কনছখাই হাওর। এখানে দ্রুত ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দোয়ারাবাজার উপজেলার শাখা কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন জানান, 'খাসিয়ামারা নদীর বাম তীরে ফসল রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।'
এলাকাবাসীর জোরালো দাবি—বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই খাসিয়ামারা নদীর এই সড়ক-কাম-বেড়িবাঁধে জরুরি ও টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় পাহাড়ি ঢলে পুরো হাওরাঞ্চল ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
