

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে থাকা র্যাব সদস্যদের ওপর হামলায় নিহত র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার মরদেহ কুমিল্লায় আনার প্রস্তুতি চলছে। নিহতের স্ত্রী ও পরিবারের লোকজন মরদেহ গ্রহণ করতে মঙ্গলবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে অবস্থান করছেন। নিহতের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কালির বাজার ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে চলছে শোকের মাতম।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় এসব তথ্য জানান নিহত মোতালেবের বড় ভাই মনির হোসেন। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে র্যাবের প্রধান চট্টগ্রামে যাচ্ছেন, সেখানে জানাজা হবে। তবে মোতালেবের মরদেহ সড়ক পথে নাকি হেলিকপ্টারে আনা হবে তা এখনও জানা যায়নি।
নিহত মোতালেব হোসেন কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের প্রয়াত আবদুল খালেক ভুঁইয়ার ছেলে। ৮ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে মোতালেব সবার ছোট। তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। রাজধানীর পিলখানা এলাকায় মোতালেবের বাসা।
র্যাব কর্মকর্তা মোতালেবের বড় ভাই মনির হোসেন আরও বলেন, ‘জানাজার সময় এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করতে কবর খনন শেষ করা হয়েছে।’
এদিকে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত মোতালেবের মৃত্যুর খবর সোমবার সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে জানানো হলে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। চলছে শোকের মাতম। র্যাবের পক্ষ এ বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। র্যাব ১১ সিপিসি-২ কুমিল্লার অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম মঙ্গলবার দুপুরে বলেন, ‘চট্টগ্রামে জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে পরিবারের লোকজন দুপুর ২টার দিকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার কথা।’
এর আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে অভিযানে থাকা র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা হয়। এই হামলায় অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ জন অংশ নেন বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে র্যাব। সোমবার সন্ধ্যায় জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নামের এক র্যাব কর্মকর্তা নিহত হন। এতে র্যাবের আরও তিন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে র্যাব সদস্যরা কাজ করছেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

