

শেখ দীন মাহমুদ, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়–লী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসবি ইটভাটা প্রতিনিয়ত গিলে খাচ্ছে প্রত্যন্ত এলাকার উর্বর কৃষি জমির মাটির পাশাপাশি নদী তীরের চরভরাটি মাটি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অগোচরে কতিপয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে ফসলি জমির উপরিভাগ ও নদীর চরে স্কেভেটর মেশিন নামিয়ে মাটি কেটে নেওয়ায় পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নদীর নাব্যতা হ্রাসে নদীতে চর জেগে ওঠার পরই কতিপয় চক্র সেখানে স্কেভেটর মেশিন নামিয়ে নির্বিচারে মাটি কেটে নিচ্ছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো প্রকার পূর্বানুমতি, ইজারা কিংবা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই নদীর চর ও আশপাশের কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে গড়ে তোলা হয়েছে এসবি ইটভাটাটি। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, প্রকাশ্য দিবালোকে তাদের এ অবৈধ কর্মকান্ড চললেও এক অজ্ঞাত কারণে নজরে আসছেনা প্রশাসনের।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে মাটি কেটে বড় গর্ত তৈরি করা হয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহতের পাশাপাশি নব্যতা হ্রাস ও বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী রক্ষায় পাউবোসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এক অজ্ঞাত কারণে নিরবতা পালন করছে।
তাদের অভিযোগ, নদীর পাশাপাশি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে এ অঞ্চলের কৃষিজমি। ধানক্ষেতসহ সবজি চাষের কৃষি জমির উপরিভাগ কেটে ইটভাটায় যোগান মেটানোয় এ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
উদ্বেগের বিষয়, এসবি ইটভাটাটি বোয়ালিয়া ব্রিজের সন্নিকটে অবস্থিত। ভারী যান চলাচল, মাটি পরিবহন ও সারাক্ষণ স্কেভেটরের তীব্র কম্পনে ব্রিজটির নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা স্থানীয়দের। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে অবৈধ ইটভাটাটি।
স্থানীয়রা জানান, জনবসতির পাশাপাশি ভাটার আশপাশে একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। অবিরাম ইটভাটা গুলো থেকে নির্গত ধোঁয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে দাবি করছেন সেখানকার অভিভাবকরা।
ইতোমধ্যে অবৈধভাবে মাটি কর্তনের ঘটনায় উপজেলার চাঁদখালীসহ প্রত্যন্ত এলাকায় প্রশাসনের অভিযান শুরু হলেও এখন পর্যন্ত ভাটাটিতে কোন প্রকার প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পরিবেশ ও নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর চর থেকে মাটি কাটা ও কৃষিজমি ধ্বংস করা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ইটভাটা (নিয়ন্ত্রণ) আইন এবং নদী রক্ষা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর পরিণতি শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও চরম মূল্য দিতে হবে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে নদীর চরভরাটি ও কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা বন্ধপূর্বক অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা এসবি ইটভাটা উচ্ছেদসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে এসবি ইটভাটার স্বত্বাধিকারী ডালিম সরদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

