

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: মাতৃত্বসেবায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিরলসভাবে কাজ করা ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স (সেবিকা) সেলিনা আক্তার পেলেন ব্যতিক্রমী ও আবেগঘন বিদায়।
মঙ্গলবার দুপুরে সহকর্মীরা তাঁকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা ও করতালির মধ্য দিয়ে রাজকীয়ভাবে বিদায় জানান। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর ছিল তাঁর চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবস। এই ব্যতিক্রমী বিদায় অনুষ্ঠানে হাসপাতাল চত্বরে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একযোগে তাঁকে সম্মান জানান। অনুষ্ঠান শেষে সহকর্মীরা সম্মাননা স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করে তাঁকে ঘোড়ার গাড়িতে তুলে রাজকীয়ভাবে বিদায় জানান।
দীর্ঘ ৩২ বছরের কর্মজীবনে সেলিনা আক্তার প্রায় ১০ হাজার প্রসূতির স্বাভাবিক (নরমাল) ডেলিভারি সম্পন্ন করেছেন। মাতৃ ও নবজাতক সেবায় তাঁর অসামান্য অবদান ত্রিশালজুড়ে প্রশংসিত। নরম মেজাজ, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক আচরণের কারণে তিনি রোগী ও স্বজনদের কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত হন।
হাসপাতালের নিয়মিত সেবাগ্রহীতা সাদিকুর রহমান বলেন, “এই হাসপাতালে সেলিনা আপার পুত্রবধূ শাহিদা আক্তারও মিডওয়াইফ হিসেবে কর্মরত। তাঁদের আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণ আমাদের কাছে ভরসার জায়গা।”
ভারপ্রাপ্ত নার্সিং সুপারভাইজার সুলতানা রাজিয়া বলেন, “সেলিনা আপা আমাদের জন্য একজন অভিভাবকের মতো ছিলেন। রোগীর প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ ও ধৈর্য আমাদের জন্য অনুকরণীয়।”
বিদায়ী অনুভূতি জানিয়ে সেলিনা আক্তার বলেন, “মানুষের সেবা করতেই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। কী পেলাম বা না পেলাম সেটা কখনো ভাবিনি। পুরো চাকরি জীবন মানুষকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সবাই যেন আমার জন্য দোয়া করেন।”
সেলিনা আক্তারের ছেলে জিম্মানুল আনোয়ার বলেন, “মায়ের এই সম্মান আমাদের পরিবারের জন্য গর্বের। তিনি যেভাবে আজীবন মানুষের পাশে ছিলেন, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস. এম. জিয়াউল বারী বলেন, “সেলিনা আক্তার একজন আদর্শ সিনিয়র নার্স। নরমাল ডেলিভারিতে তাঁর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আমাদের হাসপাতালের জন্য ছিল বড় সম্পদ।”

