

সোহেল তালুকদার, শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: আমি ১৯৯২ সাল থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ দলে ছিলাম। কোনো এক কারণে সরকার ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি আমাকে বাধ্য করে ব্ল্যাকমেইল করে নির্বাচনে নিয়ে গেলো। তখন শুধু দলের একটা নাম দেওয়া হয়েছে। আমি তৃণমূল বিএনপিতে যোগদান করিনি, এটা আমার বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুই নয়। তৃণমূল বিএনপির কর্মীও ছিলাম না আমি। শুধু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য ওরাই সবকিছু করেছে। আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে জোরপূর্বক সাইন করানো হয়েছে। ওরা আমাকে জোর করে নির্বাচনে নিয়েছে, সরকারের চাপে পড়ে এবং তাদের কোট— কৌশলের কারণে বাধ্য হয়ে আমাকে যেতে হয়েছে। এটাকে বারবার দল পরিবর্তন বলে না, আমি বাধ্য হয়ে গেলাম বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে। আমার যে পরিচয়, আমার যে আইডেন্টিটি, আমি একজন আলেমে দ্বীন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ দল থেকে তৃণমূল বিএনপি এবং বর্তমানে খেলাফত মজলিসে যোগ দিয়েছেন। এ নিয়ে মানুষের মনে অনেক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আপনি বারবার দল বদলান, এর পেছনে কারণটা কি— এমন প্রশ্নের জবাবে সুনামগঞ্জ—৩ (শান্তিগঞ্জ—জগন্নাথপুর) আসন থেকে খেলাফত মজলিসের হয়ে ৮ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহিনুর পাশা চৌধুরী এমন মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি কেএস ব্রিকস ও মোবারক ফ্যাশনের সহযোগিতায় দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’র বিশেষ আয়োজন ‘চল যাই ভোটে’ এর অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছি, পেশায় আইনজীবী। কিন্তু আমার মূল পরিচয় হলো— আমি একজন আলেম।
বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের আস্থার প্রতীক মাওলানা মামুনুল হক সাহেব উল্লেখ করে তিনি বলেন, খেলাফত মজলিস পুরো বাংলাদেশে বিস্তৃত রয়েছে, উনার হাতকে শক্তিশালী করতে পারলে আমি মনে করব আমার দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনীতি সফল। এটা দল পরিবর্তন নয়। এটা আমাদের কওমি অঙ্গনের রাজনীতির একটা প্লাটফর্ম। তিনি বলেন, মামুনুল হকের হাতকে শক্তিশালী করলে বাংলাদেশ বাঁচবে, স্বাধীনতা বাঁচবে, ইসলাম বাঁচবে, দেশ বাঁচবে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ আপনাকে কেন ভোট দিবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় ৫২৪ টি গ্রাম, দুই উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা আছে। গত ৩৬ বছরে এমন কোনো গ্রাম নেই, যে গ্রামে আমি যাইনি। এই এলাকায় ছয় লক্ষাধিক মানুষ এবং তিন লক্ষ তিয়াত্তর হাজার ভোটার আছে। সবাই আমাকে চিনেন।
তিনি বলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলার মানুষের প্রায় চল্লিশ বছরের স্বপ্ন ছিল, পৃথক একটি উপজেলা হবে। আমি যখন সংসদ সদস্য ছিলাম, তখন ২০০৬ সালের জুন মাসের ৬ তারিখে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বাস্তবায়ন করি। আমি যখন কারাগারে যাই, তখন নাম পরিবর্তন হয়ে শান্তিগঞ্জ হয়েছে। আমি উপজেলা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নয়নের যে বীজ বপন করে গিয়েছিলাম— তারই ধারাবাহিকতায় সাবেক মন্ত্রী ব্যাপক উন্নয়ন করে মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন, এজন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই।
শাহিনুর পাশা বলেন, আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় পাগলা— আউশকান্দি রাস্তায় চল্লিশ কোটি টাকা অনুমোদন করেছিলাম, নোয়াখালী — ভীমখালী রাস্তা সংস্কার, মদনপুর— দিরাই রাস্তা সংস্কার, জগন্নাথপুর — শিবগঞ্জ রোড এগুলো ছিল যাতায়াতের একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তিনি বলেন, আমাদের দুই উপজেলায় কোনো ডিগ্রি কলেজ ছিল না। জগন্নাথপুর কলেজকে আমি ডিগ্রি কলেজে উন্নীত করেছি। দশটি হাই স্কুলের দ্বিতল বিল্ডিং নির্মাণ করে দিয়েছি। ৫২ টি প্রাইমারি স্কুলকে বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে উন্নীত করেছি, ৫৮ টি কালভার্ট তৈরি করেছি, অনেকগুলো ব্রীজ তৈরি করেছি। যেকারণে মানুষ আমার প্রতি আকৃষ্ট হয়, আমি মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি বলেন, জুলাইয়ে আন্দোলনে আমি মাঠে ছিলাম, আমার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে সিলেটে আন্দোলনে ছিলাম। আমি দেশের পক্ষে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এখন বলা হয় আমি ডামি প্রার্থী, এগুলো কেন বলেন আমার মাথায় ঢুকে না। আমার এই নির্বাচনী এলাকায় অনেক উলামায়ে কেরাম জন্ম নিয়েছেন, তারা নির্বাচন করেছেন। আমিও ১৯৯৬ সালে সংসদ নির্বাচন করে আব্দুস সামাদ আজাদ সাহেবের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। ২০০১ সালের নির্বাচনে উনার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে কৌশলে পরাজিত করা হয়। এই আসনের মানুষ আমাকে ছাড়া বিকল্প কোনো চিন্তাই করে না। এই কারণে আমি মনে করি, এই এলাকায় যদি নিরঙ্কুশ ভোট পেতে হয়, তাহলে আমি শাহিনুর পাশা চৌধুরীকে বেছে নেবেন এবং আমি আশাবাদী জয়লাভ করবো।
