

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কনকনে ঠান্ডায় কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ৩ দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। রাত-দিন ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে চারিদিক। বইছে হিমেল হাওয়া। কনকনে ঠান্ডায় জনজীবনে নেমে এসেছে ভোগান্তি। অতিরিক্ত শীতে শ্রমজীবী মানুষ কাজে বের হতে পারছে না। সরকারিভাবে শীতার্তদের মাঝে সামান্য শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও হতদরিদ্র শীতার্তদের পাশে নেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, শুক্রবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শুক্রবার অনেক বেলা পর্যন্ত রাস্তায় গাড়ীর হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। ভ্যান চালক চাদ মিয়া বলেন, ক’দিন ধরে যেভাবে ঠান্ডা লাগছে তাতে আমরা মনে হয় আর বাচবো না। সকালে উপজেলার মাচাবান্দা এলাকার রাস্তায় দেখা যায় সিদ্দিকুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থীকে নাক-মুখ মুড়িয়ে বাইসাইকেল চালিয়ে প্রাইভেটে যেতে। মনিকা, সুর্মি ও উর্মি নামের ছোট তিন বোন মক্তব পড়তে যাচ্ছে। এসময় হিমেল হাওয়ায় ছোট বোনকে জড়িয়ে ধরে একটু উষ্ণতা দেয়ার চেষ্টা করছে। উপজেলা শহরের হোটেল ব্যবসায়ী বকুল মিয়া কনকনে ঠান্ডায় কর্মীর অভাবে দোকান খুলতে পারছেনা বলে জানায়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, শীতার্ত মানুষের জন্য সরকারিভাবে শীত বস্ত্র হিসাবে ১ হাজার ৩০০টি কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে যা ৬ ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়। এদিকে কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেও শীতার্ত অসহায় মানুষের পাশে শীতবস্ত্র নিয়ে কোন জনপ্রতিনিধিকে দেখা যাচ্ছে না।
রমনা মডেল ইউপি চেয়ারম্যান মো.গোলাম আশেক জানান, তিনি সরকারি বরাদ্দের ১৮০টি কম্বল পেয়েছেন যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। হতদরিদ্র শীতার্তদের জন্য কম পক্ষে ২ হাজার কম্বলের চাহিদা তার ইউনিয়নে। সরকারি ১৮০ কম্বলের সাথে ব্যক্তিগতভাবে ১৫০টি কম্বল কিনে গোপনে বিতরণ করেছেন বলে জানান তিনি।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, সরকারি ভাবে উপজেলায় মোট ১ হাজার ৩০০ কম্বলের বরাদ্দ এসেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১০০ কম্বল ইউনিয়ন ভিত্তিক বিভাজন করে দেয়া হয়েছে, অবশিষ্ট ২০০ আমাদের কাছে রয়েছে।
