

মাজহারুল ইসলাম বিপু, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য লালমনিরহাট থেকে বিশেষ ট্রেন বরাদ্দের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে লালমনিরহাট জেলা বিএনপি ও এর সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিশেষ ট্রেন বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও আজ সকালে তা বাতিল করে রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনে এসে রেলপথ অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
তাদের দাবি, আমরা ভাড়া করে ট্রেন নেওয়ার জন্য বিশেষ ট্রেন বরাদ্দ চেয়েছি। কর্তৃপক্ষ আমাদের ট্রেন দিতে চেয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা আজ বাতিল করে। ফলে ট্রেনের দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। রেলপথ অবরোধ ও আন্দোলনের কারণে বুড়িমারী-ঢাকা, লালমনিরহাট-বুড়িমারী, লালমনিরহাট-রংপুর রুটের প্রায় সাত ঘন্টা সকল প্রকার ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
পরে বিকাল ৩টায় লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) লালমনিরহাট থেকে ঢাকাগামী বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিলে লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনসহ সকল ট্রেন লালমনিরহাট স্টেশন থেকে চলাচল শুরু করে। অবরোধের কারণে রেলওয়ে স্টেশনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয় এবং চরম দুর্ভোগে পড়ে শত শত যাত্রী সাধারণ।
মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা লালমনিরহাট রেলস্টেশনে এসে ঢাকাগামী লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে বসে ও শুয়ে রেললাইন অবরোধ করেন। বিক্ষোভকারীরা জানান, আগামী ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য গত ১৯ ডিসেম্বর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একটি বিশেষ ট্রেন বরাদ্দের আবেদন করা হয়। তবে দীর্ঘ কয়েকদিন অপেক্ষার পর সোমবার রাতেই রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা বিশেষ ট্রেন দিতে পারবে না। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তারা রেলপথ অবরোধে নামেন বলে জানান বিএনপি নেতারা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, আমরা টিকিটের বিনিময়ে বৈধভাবে একটি বিশেষ ট্রেন চেয়েছিলাম। অথচ তিন দিন ধরে আমাদের সঙ্গে টালবাহানা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রেন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। এদিকে সাত ঘন্টা রেলপথ অবরোধের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কারো সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন, কারো স্বজন গুরুতর অসুস্থ, আবার কারো রয়েছে জরুরি দাপ্তরিক কাজ। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে তাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনিছুর রহমান আনিছ বলেন, আমরা টিকিটের বিনিময়ে বৈধভাবে বিশেষ ট্রেন চেয়েছিলাম। কিন্তু তিন দিন ধরে আমাদের সঙ্গে টালবাহানা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রেন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। এ বিষয়ে জানতে লালমনিরহাট ডিআরএম (ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার) অফিসে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ডিআরএম স্যার বর্তমানে পরিদর্শন কাজে কুড়িগ্রাম জেলায় অবস্থান করছেন। পড়ে বিকাল ৩টায় লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) লালমনিরহাট থেকে ঢাকাগামী বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিলে লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনসহ সকল ট্রেন লালমনিরহাট স্টেশন ছেড়ে যায়।
