

মাসুদ রানা, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দিনভর ও সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ এবং থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্র-জনতা।
কর্মসূচির আয়োজন করে খানসামা উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধা। বাদ জুমা উপজেলার পাকেরহাটের শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয় প্রথম দফার বিক্ষোভ মিছিল। মিছিলটি পাকেরহাটের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শাপলা চত্বরে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রূপ নেয়। এতে শিক্ষার্থী, যুবক ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভ চলাকালে ‘হাদির হত্যার বিচার চাই’, ‘খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার কর’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না’, ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’, ‘বিচারহীনতার অবসান চাই’—সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে একজন প্রতিবাদী কণ্ঠকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, অথচ ঘটনার এতদিন পরও মূল অভিযুক্তরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এটি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং বিচারহীনতার একটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সমাবেশ থেকে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে বক্তারা বলেন, “হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না।”
ঘোষণা অনুযায়ী সন্ধ্যা মাগরিবের পর খানসামা বাজার এলাকায় আবারও বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে খানসামা সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকে একত্রিত হয়। পরে মিছিলটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে খানসামা থানার সামনে গিয়ে থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে রূপ নেয়।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা থানার সামনে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ‘হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার কর’, ‘বিচার চাই’—স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে খানসামা বাজার এলাকা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যদি দ্রুত বিচার নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত ও কঠোর হবে। প্রশাসনের ব্যর্থতার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।”
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে খানসামা থানার সামনে ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ শুধু খানসামায় নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—দ্রুত, সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার।
