

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: গত ৬ মাসের ব্যবধানে যশোরের চৌগাছায় অর্ধকোটি টাকার বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার চুরি হয়েছে। এর ফলে গভীর ও অগভীর নলকুপের মালিকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়টি দেখার কেউ নেই।
পল্লি বিদ্যুতের অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ছয় মাসের ব্যবধানে গভীর ও অগভীর নলকূপ মিলে ৬০ থেকে ৭০টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সপোর্টার কৃষকের মাঠ থেকে চুরি হয়েছে। যার একটির দাম ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। সেই হিসাব অনুযায়ী অর্ধকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
জানা যায়, গত ১লা ডিসেম্বর (সোমবার) দিবাগত রাতে উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের মাঠ থেকে এ গ্রামের আমজাদ মিয়ার গভীর নলকুপের ৩টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার চুরি হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। এর আগে উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের পেটভরা গ্রামের আঃ মাজিদের পর পর ২টি অগভীর নলকুপের ট্রান্সমিটার চুরিসহ ৬০ থেকে ৭০টি চুরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চৌগাছাসহ আশপাশের উপজেলা মিলে ট্রান্সমিটার চুরির একটা চক্র গড়ে উঠেছে। এদের সেল্টার দিচ্ছেন কিছু দুর্নীতিবাজ বৈদ্যুতিক অভিজ্ঞ মিস্ত্রীরা। বিশেষ করে যারা বৈদ্যুতিক কাজে অভিজ্ঞ বা দুর্নীতিবাজ বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি তারাই এই চুরির সাথে জড়িত। এই চোর চক্র ট্রান্সমিটারের ভিতরের মূল্যবান তার বিভিন্ন অসাধু ইলেকট্রনিক্স এর দোকানে বিক্রি করে থাকে।
এ বিষয়ে যাত্রাপুর গ্রামের আমজাদ মিয়ার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, এখন আমি নিরুপায়। আমি অসুস্থ হয়ে পড়ে আছি। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বললেন, এই ট্রান্সমিটার এখন কিভাবে লাগাবো?পল্লি বিদ্যুতের অফিস থেকেও আমরা কোন আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছি না। এভাবে কিছু দিন চলতে থাকলে কৃষকের মাঠের সব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।
পেট ভরা গ্রামের আঃ মাজিদ বলেন, ট্রান্সমিটার চুরির একটা চক্র গড়ে উঠেছে। যারা বৈদ্যুতিক দুর্নীতিবাজ মিস্ত্রি তারাই এই চুরির সাথে জড়িত। তারা ট্রান্সমিটারের ভিতরের মূল্যবান তার গুলো ইলেকট্রনিক্স এর দোকানে বিক্রি করে থাকে। এর প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন।
উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম আরিফুল ইসলাম বলেন, গত ৬ মাসের ব্যবধানে ৬০ থেকে ৭০টি পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সমিটার চুরি হয়ে গেছে। এই চোর চক্রকে ধরতে মাঠের কৃষক ও নলকুপের মালিকদের আরও সচেতন হতে হবে।
ট্রান্সমিটার চুরি হওয়া ব্যক্তিদের পল্লী বিদ্যুতের উদ্যোগে প্রতিস্থাপনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ট্রান্সমিটার ফ্রি দেয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। তাকে নিজস্ব অর্থায়নে ফের লাগাতে হবে। তবে আমরা ওটা প্রতিস্থাপনের ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা করব।
