

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি: মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখের মিলে মিশে গঠিত এক অদ্ভুত পথচলা। কেউ নিজের সুখের জন্য বেঁচে থাকে, আবার কেউ নিঃস্বার্থভাবে অন্যের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে দেয়। ঠিক তেমনি এক মানবিক উদাহরণ গড়ে তুলেছেন কেরানীগঞ্জের স্বপ্ন সাহা। প্রতিবন্ধী ভাই-বোনের সারাজীবনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে আজও বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হননি তিনি।
আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বপ্ন সাহা দীর্ঘদিন ধরে তার দুই প্রতিবন্ধী ভাই-বোনের দেখভাল করে যাচ্ছেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় তিনি প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা পান। তবে সরকারি সহায়তা দিয়ে নয়, নিজের শ্রম ও মমতায় তিনি গড়ে তুলেছেন এই পরিবারের স্বপ্নঘর।
স্বপ্নের প্রতিবেশীরা বলেন, স্বপ্ন সাহা ছোটবেলা থেকেই দায়িত্বশীল ও মানবিক মনের মানুষ। পিতা-মাতার মৃত্যুর পর থেকেই তিনি ভাই-বোনদের এক মুহূর্তের জন্যও একা ফেলেননি। তার এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ত্যাগে মুগ্ধ সবাই। তিনি একজন সত্যিকার মানুষ। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাদের যত্ন নেওয়া, চিকিৎসা, ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করা, সমাজের বিভিন্ন বাঁকা দৃষ্টিকে উপেক্ষা করে তাদের পাশে থেকে হাসিমুখে দিন কাটান স্বপ্ন সাহা।
নিজের সুখ ত্যাগ করে ভাই-বোনদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। সমাজে এমন নিঃস্বার্থ মানুষ খুব কমই দেখা যায়।”স্বপ্ন সাহা ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত পরোপকারী ও দায়িত্বশীল। পরিবারের একমাত্র সুস্থ সন্তান হিসেবে ছোট ভাই-বোনদের প্রতিবন্ধকতা তাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। শৈশব থেকেই তিনি প্রতিজ্ঞা করেন— নিজের জীবন গড়ে তুলবেন তাদের হাসিমুখ দেখার জন্যই।
নিজের অনুভূতি জানতে চাইলে স্বপ্ন সাহা বলেন, “আমি সুখী তখনই, যখন আমার ভাই-বোন হাসে। ওরা আমার সন্তানস্বরূপ। নিজের জীবন না গড়তে পারলেও ওদের জীবনটা একটু সুন্দর করতে পারলেই আমি তৃপ্ত। আমি সুখ খুঁজি না, আমার ভাই-বোনের মুখের হাসিই আমার সবচেয়ে বড় সুখ। আল্লাহ যেন তাদের সুস্থ রাখেন, এটাই আমার প্রার্থনা।”
কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ শিবলীজ্জামান জানান, স্বপ্ন সাহার মতো মানুষই সমাজের অনুপ্রেরণা। প্রতিবন্ধী পরিবারের সদস্যদের যত্ন ও সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্বপ্ন সাহা একজন উদাহরণযোগ্য নারী। তিনি প্রতিবন্ধী ভাই-বোনদের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। সমাজে এমন মানুষই অন্যদের অনুপ্রেরণা দেয়। আজকেই উনাদের প্রতিবন্ধী কার্ড ও প্রতিবন্ধী ভাতার টাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

