

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীতে বন্যার পানি কমার সাথে সাথে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা এলাকায় তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ১০ একর ফসলী জমি। ভাঙন আতঙ্কে ভুগছে এলাকার অর্ধশতাধিক পরিবার।
মঙ্গলবার (২৬ আগষ্ট) সরেজমিন এ উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিস্তা নদীর ভাঙন দৃশ্য। এসময় কথা হয় স্থানীয় শাহিনুর, জুয়েল, আলম, মকবুল হোসেন, মোস্তফা, ইউনুস, আইয়ুব, মুকুল চন্দ্র, রঘুনাথ চন্দ্র, আমজাদ হোসেনসহ অনেকের সাথে।
বিনবিনার মোস্তফা জানান, কি আর বলবো দুর্ভোগ এর কথা- বন্যার পানি কমার সাথে সাথে এই এলাকায় প্রবল ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় ১০ একর আমন ক্ষেত তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয় জুয়েল মিয়া জানান, ভাঙন রোধ করা না গেলে যে কোন মুহূর্তে আমাদের ঘর-বাড়ী নদীতে ভেঙ্গে যাওয়ার চরম আশঙ্কা রয়েছে। তিস্তার ভাঙনে এলাকার প্রায় অর্ধশত পরিবার হুমকির মুখে রয়েছে।
মুকুল চন্দ্র বলেন, এবার এই বন্যা ও ভাঙনে আমাদের আমন ক্ষেত নদীতে ভেঙ্গে গেছে। আমরা বছরে একবারই ধান (আমন) আবাদ করি। এ ছাড়া আমরা অন্য কোনো ফসল আবাদের সুযোগ পাই না। এই এক বছর কি খেয়ে বেঁচে থাকব তার কোন উপায় নাই।
শাহিনুর, জুয়েল, আলম, মকবুল, রঘুনাথ চন্দ্র, আমজাদ হোসেনসহ অনেকে জানান, আমাদের পথে বসতে হবে যদি এখনই সরকারি সহযোগিতা ও ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নেয়া হয়।
কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের (প্যানেল) চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিনবিনা থেকে চর শংকরদহ পর্যন্ত একটি বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড কেবল আশ্বাস দিয়েই যাচ্ছে, বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ নেই। তিনি আরো বলেন, বাঁধটি নির্মাণ করা হলে কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনিয়া থেকে লক্ষীটারী ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা তিস্তার বন্যা ও ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, বন্যা-ভাঙন থেকে উপজেলার মানুষকে রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে। উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী যেসব এলাকায় ভাঙন রয়েছে তা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।

