

মাসুদ রানা, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা সদর এলাকায় অবস্থিত ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল হয়ে আছে। নেই চিকিৎসক, নেই নার্স, নেই কর্মচারী—ফলে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি পড়ে আছে অকেজো অবস্থায়। স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ থাকলেও এই হাসপাতালের নামে জমেছে বিপুল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল। সর্বশেষ হিসাবে বকেয়া দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৫২ হাজার ৫০২ টাকা।
২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিল পরিশোধ না করায় দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–১ এর খানসামা সাব–জোনাল অফিস সম্প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে— নেট বাবদ বকেয়া ১৩ লাখ ২ হাজার ২১৮ টাকা, মিটার ভাড়া ৩ হাজার ২০০ টাকা, এসপিএল বাবদ ৪৭ হাজার ৮৪ টাকা। সব মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৫২ হাজার ৫০২ টাকা বকেয়া। নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৫–এর মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটি কার্যত বন্ধ হয়ে থাকলেও কাগজে–কলমে চালু দেখিয়ে কোটি টাকার বিল জমছে। অথচ এলাকাবাসী সামান্য চিকিৎসার জন্যও জেলা শহরের হাসপাতালে ছুটতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ রিফাত বলেন, “হাসপাতাল বন্ধ, কোনো ট্রিটমেন্ট পাই না। অথচ সাড়ে ১২ লাখ টাকার মতো বিদ্যুৎ বিল জমছে—এটা জনগণের টাকা অপচয় ছাড়া কিছু নয়।”
আরেক যুবক হাসান রিয়াদ বলেন, “আমরা অসুস্থ হলে জেলা শহরে যেতে হয়। এখানে হাসপাতাল আছে, কিন্তু সেবা নেই।”
এ বিষয়ে দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–১ এর খানসামা সাব–জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার এ এস এম রাকিবুল হাসান জানান, “দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বিল জমে আছে। আমরা নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দিয়েছি। নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।”
দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. আসিফ ফেরদৌস বলেন, “খানসামার এই হাসপাতাল প্রশাসনিক অনুমোদন ও জনবল ছাড়াই বছরের পর বছর পড়ে আছে। সে কারণে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সুযোগও নেই।”
স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত এ অঞ্চলের মানুষ মনে করছেন, দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ না নিলে তারা আরও দীর্ঘদিন চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেন।

