

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনের একটি কমানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে আজ সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বাগেরহাটে হরতাল ও ৫টি মহাসড়ক অবরোধের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। হরতালের সমর্থনে বন্ধ ছিল মাছ, কাঁচাবাজারসহ সকল দোকানপাট। বন্ধ ছিল দূরপাল্লার যানবাহনসহ আঞ্চলিক সড়কপথে চলাচলকারী সকল যানবাহন।
সকাল থেকে খুলনা-মোংলা মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, অবরোধের সমর্থনে সড়ক ও নৌপথে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ইপিজেড, শিল্প কলকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, খেয়া ও ফেরি পারাপার বন্ধ রয়েছে। বন্দর জেটির কার্যক্রম ও সড়ক পথে এ বন্দরের পণ্য পরিবহনও বন্ধ রয়েছে। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে গোটা জেলা।
এর আগে হরতাল ও অপরাধের সমর্থনে শনিবার সন্ধ্যায় বাগেরহাট জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে শহরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। প্রতিবাদ সমাবেশ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম সকলকে শান্তিপূর্ণভাবে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবি আদায়ে আজকের হরতাল ও জেলার ৫টি মহাসড়ক অবরোধ সফল করতে আহ্বান জানান।
বাগেরহাট সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মাদ ইউনুস বলেন, “বাগেরহাটে চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে আমরা গেল ৩০ জুলাই তিনটি আসনের প্রস্তাব দেওয়ার পর থেকে বাগেরহাটে আন্দোলন করে আসছি। কখনো সংবাদ সম্মেলন, কখনো রাজপথ অবরোধ আবার নির্বাচন অফিসে অবস্থান কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এরপরেও নির্বাচন কমিশন তাদের প্রস্তাব থেকে ফিরে আসেনি। যার কারণে আমরা আজকে সর্বত্র অবরোধ ও হরতালের ডাক দিয়েছি।”

তিনি আরো বলেন, “জেলার সর্বস্তরের জনগণ আমাদের দাবির স্বপক্ষে অবস্থান নিয়ে হরতাল ও অবরোধ সফল করছেন। কোন দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলছে না। মোংলা বন্দর এলাকারও বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। যান চলাচল বন্ধ। আশা করি নির্বাচন কমিশন আমাদের দাবি মেনে নিবে। তা না হলে এর থেকে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
জেলার চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাতিতে আজ হরতাল ও অবরোধের পাশাপাশি বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও ঢাকায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সামনে অবস্থানসহ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এছাড়া সোমবার একই সময়ে ঢাকায় নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনে বিক্ষোভ মিছিলসহ অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে। বাগেরহাটের আসন কমানো অথবা বহাল রাখার বিষয়ে আজ ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশনে শুনানী অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গেল ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কারিগরি কমিটি বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দিলে জেলায় সর্বদলীয় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু হয়।
