

তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার তিতাস উপজেলার সাহাবৃদ্ধি গ্রামে ট্রাক্টর চালক নজরুল ইসলাম (৩৫) হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। হত্যার ঘটনায় আটক হোসেন-স্মৃতি দম্পতি পরকীয়ার জেরে নজরুলকে ৮ টুকরো করে খালে ফেলে দেয়ার কথা স্বীকার করলেও, নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি এটি পরকীয়ার নয়, পূর্ব শত্রুতার জেরে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
নজরুলের মা আয়শা বেগম দাবি করেন, “পরকীয়ার কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাহাবৃদ্ধি গ্রামের হোসেন ও তার মেয়ে স্মৃতির স্বামী হোসেন এই দুই হোসেন (জামাই ও শ্বশুর) মিলে আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে টুকরা টুকরা করে খালে ফেলে দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “তিন-চার বছর আগে হোসেন (শ্বশুর) একই বাড়ির ছাত্তার মিয়ার ছেলেকে কুপিয়ে আহত করলে, ওই ঘটনার বিচার শালিশে নজরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং হোসেনকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই থেকেই হোসেন প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। হত্যার দুইদিন আগে স্মৃতি তার দুই সন্তানকে বাবার বাড়িতে রেখে যান এবং হত্যার চারদিন পর হোসেন ও তার স্ত্রী মিলাদ পড়ে ফেরত যান, সবই পূর্বপরিকল্পনার অংশ।”
নিহত নজরুলের পিতা হানিফ ভূঁইয়া বলেন, “আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখন যারা পরকীয়ার কথা বলছে, তারা মূল ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে চাইছে। খুনিদের মধ্যে হোসেন ও তার স্ত্রী লাকি আক্তার পলাতক। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
নজরুলের স্ত্রী বৃষ্টি আক্তার বলেন, “আমার স্বামী পরকীয়া করতেন এমন কোনো প্রমাণ বা আচরণ আমি কখনও দেখিনি। যারা এসব বলছে, তারা মূল অপরাধ আড়াল করতে চাইছে, আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, পলাতক হোসেন ও তার স্ত্রী লাকিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”
এ ঘটনায় সাহাবৃদ্ধি গ্রামের সমাজসেবক মো. মোস্তাক আহমেদ ভূইয়া বলেন, “এটি নিছক পারিবারিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। নজরুলের মোবাইল ফোন কুমিল্লায় ফেলে আসা, হত্যার অস্ত্র হিসেবে কুড়াল ও ছুরি ব্যবহার করা এবং হত্যার ধরণ সবই এটি পরিকল্পিত হত্যার ইঙ্গিত দেয়।"
তিতাস থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহীদ উল্যাহ জানান, “নজরুলের পিতার করা নিখোঁজ জিডির ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হোসেন ও তার স্ত্রী স্মৃতি আক্তারকে গ্রেপ্তার করি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নজরুলকে বাসায় ডেকে এনে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তার হাত-পা আলাদা করে চারটি বস্তায় ভরে খালে ফেলে দেয়। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নিহতের দুই হাত ও দুই পায়ের ৪টি অংশ উদ্ধার করা হয়। আমরা তাদের রিমান্ড আবেদন করেছি, তদন্ত চলছে।”
উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট রাত ১০টার দিকে মজিদপুর গ্রামের হোসেনের স্ত্রী স্মৃতি আক্তার নজরুলকে ফোন করে ডেকে নেন। এরপর থেকে নজরুল নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে তার দেহাংশ খাল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুড়াল ও ছুরি জব্দ করা হয়েছে।
