ঢাকা
logo
প্রকাশিত : August 17, 2025

টানা বৃষ্টিতে কাজিপুরে নিত্যপণ্যের বাজার চড়া, সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা

কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: ভাদ্রের শুরুতেও অনবরত বৃষ্টি ঝরছে দেশের সর্বত্র। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শাক-সবজি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে কাঁচা বাজারে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে বিভিন্ন সবজির দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ হয়ে গেছে। এতে করে সাধারণ মানুষের বাজারে গিয়ে জিনিস কিনতে নাভিশ্বাস অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে এক কেজির কাছে আধা কেজি এক তার কম পণ্য কিনে বাড়ি ফিরছেন তারা।

বাজারের বিক্রেতাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, দিনভর মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির কারণে কৃষকের ক্ষেতের সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে সবজির উৎপাদন কমে গিয়েছে। এ কারণে সরবরাহ কম হওয়ায় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। ক্রেতারা অবশ্য ভিন্ন কথা জানান, তারা বলেন, সঠিক ভাবে মনিটরিং না হওয়ায় বাজারে দামের অস্থিরতা কমছে না। আবহাওয়ার দোহাই দিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীও পাইকারি পর্যায়ের দাম বাড়িয়েছে। ফলে অনেক বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে খুচরা ক্রেতাদের।

বাজারগুলোতে কাঁচা সবজির সাথে সাথে বেড়েছে ময়দা, ডাল, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, আদা, ডিম, মুরগি, গরুর মাংস ও মাছের দাম। এসব এখন অনেকটাই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। পণ্যের দামে দিশেহারা নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।

গত শনিবার ও রবিবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার ঢেকুরিয়া, সোনামুখী, সিমান্তবাজার, আলমপুর চৌরাস্তা, মেঘাই, শিমুলদাইড়, নাটুয়ারপাড়া, মনসুর নগর, ভানুডাঙ্গা, কুনকুনিয়া, মাথাইলচাপড়, কালিকাপুর হাট ও বাজার ঘুরে দেখা গেছে দাম বৃদ্ধির একই চিত্র। পাইকারি বাজারের চেয়ে খুচরা পর্যায়ে দেড় থেকে দুইগুণ বেশি দরে পণ্য বিক্রি হয়েছে। গত শনিবার এক কেজি কাচা মরিচ ২০০-২৪০ টাকা কেজি, বেগুন ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, প্রতি কেজি দেশি শসা ৮০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা, কাকরোল ৮০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, কচুমুখি ৬০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি লাউ গড়ে ৬০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

এক সপ্তাহে আগেও বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি দেশি শসা ৪০ টাকা, কাকরোল ৪০ টাকা, পটোল ৩০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, কচুমুখি ৫০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, ঢেড়স ৪০ টাকা ও পেঁপে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি লাউ বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকায়। কাঁচা মরিচের দাম ছিল ১৬০ টাকা কেজি।

মুরগির বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৬০-১৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ১৪৫-১৫০ টাকার মধ্যে ছিল। পাকিস্তানি মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬০০ টাকায়। খাসির মাংস ১১০০ টাকা, আর গরুর মাংস ৬৫০-৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রোটিনের আরেক উৎস ডিমের দামও বাড়ন্ত। ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি হালি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়।

শনিবার বিকেলে সোনামুখী বাজারের সবজি বিক্রেতা সিরাজ মিয়া জানান, বাজারে একমাত্র পেপে ছাড়া কোন সবজির দামই ৬০ টাকার নিচে নেই। ক্রেতারা আমাদের এসে অনেক কথা বলে, কিন্তু আমরাতো কমে বিক্রি করতে পারি না। চড়া দামে কিনে আনতে হয়।

উপজেলার শিমুলদাইড় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, জনৈক গৃহিণীর সাথে সবজি বিক্রেতার কথা কাটাকাটি হচ্ছে। এগিয়ে গিয়ে জানা গেলো, দোকানী তাকে দামের কথা বলতেই তিনি রেগে গেছেন। এসময় ওই গৃহিণী জানান, কি করবো সাতদিন পরে বাজারে আচি। এহন আইসা হুমি বেবাক জিনিসের দাম বেশি। কি কিনমু।

একই সাথে পাল্লা দিয়ে মসলা ও তেলের দামও বেড়েছে। যদিও বৃষ্টির সাথে এসবের দাম বাড়ার কোন কারণ নেই। সয়াবিন তেল (লুজ) বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৬২ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫২ টাকা। পাম অয়েল ও সুপার পাম অয়েলের দামও বেড়েছে যথাক্রমে ১০ ও ১১ টাকা করে। খোলা ময়দার দাম বেড়ে হয়েছে ৪৪ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৭ টাকা।

মসলার মধ্যে দেশি পেঁয়াজ এখন ৮৫ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-৬৫ টাকা। দেশি রসুন ১৪০ টাকা কেজি, আমদানি করা রসুন ২০০ টাকা। আদা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে। এলাচের কেজি ৪৬০০ টাকা মিডিয়াম নিম্নমানেরটা ৪২০০ টাকা কেজি। যেটা সব থেকে ভালো এলাচ সেটার দাম ৫২০০ টাকা কেজি।

ঢেকুরিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, কাঁচা পণ্যের দাম সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। একটানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহ হঠাৎ করে কমে গেছে। তাই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ার পবির্তন হলে সবজির দাম কমে আসবে বলেও তারা জানান।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram