

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মায় ৩ সেন্টিমিটার পানি কমলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যাকবিলত এলাকা থেকে এখনো পানি নামেনি। পানি কমার সাথে সাথে পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর বন্যা উপদ্রুত এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব জানান, শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৬টা থেকে শনিবার (৬ আগস্ট) সকাল ৯টা পর্যন্ত পদ্মার পানি ৯ সেন্টিমিটার কমেছে। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানির সমতল দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৬৩ মিটার, যা বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার নিচে।
তিনি আরো বলেন, পদ্মায় পানি কমতে শুরু করায় গ্রামগুলোতে থেকে আজ তেমন পানি নামেনি। তবে পানি কমার সাথে সাথে পদ্মা নদীতে ভাঙ্গন দেখা দিতে পারে।
এর আগে সাত দিন টানা পানি বাড়ার ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে ১৫ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে এবং এতে প্রায় ২ হাজার ২’শ ১২ হেক্টর ফসলি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া ৪১ টি বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বন্ধ হয়ে গেছে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আর ৯টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলার আলাতুলী ও নারায়ণপুর ইউনিয়নের সাড়ে ১১’শ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। আরো ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা হয়েছে, দ্রুত তাদের মধ্যেও ত্রাণ বিতরণ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, পানি কমতে শুরু করেছে এবং বন্যায় ফসলের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন শেষে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের প্রণোদনা দেয়া হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, জেলায় ২৮ টন চাল ও ২৩০ পরিবারকে শুকনা খাবার দেয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ ৪ টি পরিবারকে ৮ বান্ডিল ঢেউটিন ও ২৪ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
তবে, বন্যা উপদ্রুত এলাকাগুলোতে এখনো শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ এবং গো-খাদ্যের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। বিশেষ করে পদ্মা তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষ মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন।
