ঢাকা
logo
প্রকাশিত : August 15, 2025

সরকার পরিবর্তন হলেও ভাগ্য বদলায় না হোজির নদীর

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাট জেলা শহর থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া হোজির নদীতে একসময় চলাচল করতো নৌযান, স্থানীয়দের মাছ শিকার ও কৃষি সেচের ভরসা ছিল এই নদী। বাস্তব অবস্থা হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে থাকা নদীটি মাছের খামারে রূপ নিয়েছে। যখন যারা ক্ষমতায় থাকে নদীটিতে বাঁধ ও জাল দিয়ে মাছের খামার করে রাখে। কখনোই দখলমুক্ত হয়না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে প্রভাবশালী দখলদারদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না তারা। ২০১৭ ও ২০২২ সালে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে নদীটি দুইবার দখলমুক্ত করা হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই ফের প্রভাবশালীরা বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ শুরু হয়। এখনো একই অবস্থা চলছে।

স্থানীয়রা জানায়, বিগত ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা নদী দখল করে বাঁধ দিয়ে চিংড়ি, বাগদা, গলদা, রুই, কাতলাসহ নানা প্রজাতির মাছ চাষ করতেন। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে বর্ষায় জলাবদ্ধতা, কৃষিজমি ক্ষতিসহ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ২০১৭ সালের ১০ মে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তৎকালীন সদর উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ডেমা ইউনিয়নের খেগড়াঘাট ব্রিজের নিচের অবৈধ বাঁধ অপসারণ করে। তবে এক মাসের মধ্যে দখলদাররা ফের বাঁধ নির্মাণ করে। ২০২২ সালেও একইভাবে নদী দখলমুক্ত অভিযান চালানো হয় এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়, কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই আবারও নদী ভাগ করে মাছ চাষ শুরু হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, সরকারের অভ্যন্তরীণ ছোট নদী, খাল ও জলাশয় খনন প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালে ৮.৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের হোজির নদীর পুনঃখননের কাজ শুরু হয়। কিন্তু নানা বাধা ও প্রভাবশালীদের চাপের কারণে পুরো খনন কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। মাত্র ৬ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ২ কোটি টাকা বিল পেলেও স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ এর সুফল পাননি।

ডেমা ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা জলিল শেখ ও ইব্রাহিম হোসেন বলেন, খেগড়াঘাট ব্রিজের নিচে আড়াআড়ি নেটপাটার বাঁধ দিয়ে নদীর প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এভাবে চারটি স্থানে দুই প্রান্তে নেট জাল টানিয়ে নেতারা ঘের ভাগ করে নিয়েছে।

নদী পাড়ের বাসিন্দা সলেমান হাওলাদার বলেন, যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের নেতাকর্মীরা নদী দখল করে। আমাদের নদীর পানি ছোঁয়ারও অধিকার নেই। মাছ ধরা তো দূরের কথা।

একই গ্রামের বাসিন্দা সত্তার শেখ বলেন, একসময় আমি এই নদীতে নৌকা চালিয়েছি, জাল দিয়ে মাছ ধরেছি। এখন এখানে যাওয়াই অপরাধ মনে হয়। এটা আর নদী নেই, এটা এখন সরকারি নদী নামের মালিকানাধীন মৎস্য ঘের।

ডেমা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শেখ নিজাম উদ্দিন বলেন, এটা যে নদী, বিষয়টি আমরা সবাই জানি। আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দখল করে মাছ চাষ করতেন, ৫ তারিখের পর আওয়ামী লীগের লোকজন পালিয়ে গেলে বিএনপির কয়েকজন নদীটি দখল করে মাছ চাষ করছে। আমাকেও শেয়ারের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমি জড়াইনি। দখল, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির জন্য আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে, আমরাও যদি সেই পথে হাঁটি তাহলে আমাদের অবস্থাও তাদের মতো হবে। নদী সবার, এটা দখল করা উচিত নয়।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মদ আল-বিরুনী বলেন, পূর্বে একাধিকবার উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও প্রভাবশালীরা আবারও নদীটি দখল করেছে। সম্প্রতি নতুন করে দখলের বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম না, তবে দ্রুত প্রশাসনের সঙ্গে মিলিত হয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।

বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারি খাল ও নদী দখল করে মাছ চাষ বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার আইনত অপরাধ। বিষয়টি জানা ছিল না, নদীটি উদ্ধারে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram