

কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনা বেষ্টিত তেকানি ইউনিয়নে সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়ের মৌখিক নির্দেশে ৩ হাজার ৫০০ মিটার মাটির বাঁধ নির্মাণকারী শ্রমিকগণ এখনো কোন মজুরি বাবদ টাকা পয়সা পাননি। গত ৫ আগষ্টের পর এমপি জয় আত্মগোপনে থাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম অচলাবস্থার। এ অবস্থায় বাঁধ নির্মাণের সাথে জড়িত ৮টি ড্রেজার ও ৩টি ভেকু মেশিনের মালিক এবং ২ শতাধিক শ্রমিক তাদের পাওনা ৩ কোটি টাকা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
জানা যায়, বিগত চার বছরে বালি জমে চর পড়ার কারণে যমুনার একটি শাখা বের হওয়ায় উপজেলার নাটুয়ারপাড়া, তেকানি ও নিশিন্তপুর এই ৩টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দেয়। ক্ষতিগ্রস্থরা তেকানী ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বহমান যমুনা নদীর সেই শাখাটি বন্ধ করার জন্য তৎকালীন সংসদ সদস্যের নিকটে দাবী জানান। সেসময় ওই এমপি জনগণের দাবী ও নদী ভাঙ্গনরোধে কোন সরকারি প্রকল্প গ্রহণ না করেই বাঁধ নির্মাণের সিদ্বান্ত নেন।
২০২৪ সালের ১৯ মার্চ থেকে চরাঞ্চলের তেকানি খেয়া ঘাট হতে পশ্চিম উত্তর দিকে তেকানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একই ঘাটের পশ্চিম দিকে তেকানি চর পর্যন্ত ৩ হাজার ৫০০ মিটার বাঁধ নির্মাণ শুরু হয়। সাবেক এমপির মৌখিক নির্দেশে এই মাটির বাঁধ নির্মাণ কাজে ৮টি ড্রেজার ও ৩টি ভেকু মেশিন ব্যবহার করে ২ শতাধিক শ্রমিক কাজ করতে থাকেন। বাঁধ নির্মাণ চলমান অবস্থায় সরকারি বিধিমতে সাবেক এমপি প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউপি চেয়ারম্যানদের সভাপতি করে পৃথক ৫ সদস্য বিশিষ্ট চারটি পিআইসি কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যগণ উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে কমিটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের পরামর্শে বাঁধ নির্মাণ করতে থাকে। এ অবস্থায় ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ এমপির বরাদ্দ থেকে ৩৬ লাখ এবং জেলা ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে ৫০ লাখ মোট ৮৬ লাখ টাকা সংশ্লিষ্টদের বিল দেওয়া হয়। বাঁধ নির্মাণ শেষে পিআইসি কমিটির হিসেবে নির্মান ব্যয় দাঁড়ায় ৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এই অবস্থায় সরকার পতনের পর থেকে সাবেক এমপি, প্রকল্পের সভাপতি ও সদস্য সচিবরা আত্মগোপনে চলে যান। এ অবস্থায় পাওয়া টাকা না পেয়ে সংশ্লিষ্টরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ড্রেজার মালিক জাহিদুল ইসলাম কুড়ান বলেন, আমরা ৮টি ড্রেজার দিয়ে বাঁধ নির্মাণে বালু ফেলেছি। এখনো মজুরির ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা পাইনি। সাবেক এমপির নির্দেশে কাজ করেছি। এখন তারা পলাতক রয়েছেন। এই টাকা না পেলে শ্রমজীবী মানুষ আমরা পথের ফকির হয়ে যাব।
ভেকু মেশিনের মালিক সোহেল বলেন, ৩টি ভেকু মেশিন দিয়ে বাঁধ নির্মাণে কাজ করেছি। বাঁধ নির্মাণও শেষ। মজুরির সামান্য কিছু টাকা পেয়েছি, অধিকাংশ টাকা এখনো বাকী রয়েছে।
শ্রমিক ফারুক, জসিম, ময়দানসহ অনেকে জানান, যাদের আশ্বাসে আমরা কাজ করেছি, তারা এখন পালিয়ে রয়েছে। আমরা এখন কার কাছে যাব?
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আব্দুস সালাম বিএসসি বলেন, বাঁধটির কাজের তদারকির দায়িত্ব দিয়েছিলেন সাবেক এমপি সাব। তিনি সেসময় ৮৬ লাখ টাকাও আমার হাতে দিয়েছেন। যা আমি কাজ সংশ্লিষ্টদের মাঝে বিতরণ করি। এখনো তিন কোটি টাকা পাওয়া রয়েছে কাজ সংশ্লিষ্টদের। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এই টাকা পরিশোধের জন্য দাবী জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুর রাজ্জাক গত বুধবার বিকেলে বলেন, অল্প দিন হলো আমি এখানে এসেছি। বাঁধ নির্মাণের সাথে জড়িত লোকজনরা আমাকে টাকা পাওনার বিষয়টি অবগত করেছে। এ বিষয়ে কি করা যায় সে বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মন্ত্রনালয় থেকে কোন মাধ্যমে বিশেষ কোন বরাদ্দ আনা যায় কি না সে বিষয়ে চেষ্টা করতে সংশ্লিষ্টদেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

