

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর বাসায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতা।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে হাতিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এমপির পোল সংলগ্ন বাসা ও ব্রীকফিল্ড বাজার বাসায় এ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
বিগত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাষণ দেওয়ার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সারা দেশের ন্যায় হাতিয়ায়ও বিক্ষোভ করেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতা। পরে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে মোহাম্মদ আলীর বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়।
এ সময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতা আব্দুল হান্নান মাসুদের পক্ষ হয়ে আওয়ামীলীগ ও মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এছাড়া রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার নলচিরা ঘাটে থাকা মোহাম্মদ আলীর চারটি বোটেও অগ্নিসংযোগ করে সেখানকার বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ পরবর্তী মোহাম্মদ আলীর দুটো বাসা পুরোপুরি ভস্মীভূত, এখনো জ্বলছে আগুন। চারোদিকের দেয়াল সমূহ কালো বর্ণ ধারণ করছে। বর্তমানে বাসার নিয়ন্ত্রণে আছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের দক্ষিণ জোন হাতিয়া স্টেশন।
এলাকাবাসী জানান, রাত ১১টার দিকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে মোহাম্মদ আলীর বাসার দিকে যাওয়ার সময় স্থানীয় ও প্রতিবেশীরা তাদের গতিরোধ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেলসহ ধাওয়া পাল্টা হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী জুয়েল বলেন, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে যখন এমপির বাসা আক্রমণ করতে আসে তখন এলাকার লোকজন প্রথমে বাঁধা দেয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তাদেরকে এখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
শামীম নামের একজনে জানান, আক্রমণকারীদের প্রথমে তাড়িয়ে দেওয়ার পর এলাকাবাসী যে যার বাড়িতে চলে যান। পরে রাত ২টার সময় তারা আবার সংঘবদ্ধ হয়ে এসে বাসায় ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে দেয়। বাজারে আগুন ও ভাঙচুর করে।
জসিম নামের আরেকজনে জানান, এখানে কোনো গোলাগুলির শব্দ শুনি নাই। এর আগে মোহাম্মদ আলীর ঢাকা ধানমন্ডিস্থ বাসভবনেও পুলিশের অভিযানের খোঁজ পাওয়া যায়।
মোহাম্মদ আলীর ছোট ছেলে মাহতাব আলী অদ্রি জানান, আমার বাবা-মা-ভাই জেলে আছেন। আমাদের বাড়িতে কেউই নেই। বিশৃঙ্খলকারীরা হামলা করতে আসলে সাধারণ মানুষ প্রথমে তাদের গতিরোধ করে পরে ধাওয়া করে। ওখানে গুলিবর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। যারা এমন গুজব ও মিথ্যাচার করে তারা হাতিয়ার ভালো চায় না। আমার বাবা-মা-ভাই সবাই জেলে থাকার পরও আমাদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের এমন ঘটনায় আমরা ধিক্কার জানাই, নিন্দা জানাই।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে উপজেলার ওছখালীর নিজ বাসভবন থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক এমপি আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। তারপর ১২ আগস্ট থেকে স্ত্রী-ছেলেসহ কারাগারে আছেন হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আজমল হুদাকে মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি কল কেটে দেন।
