

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে কর্মপ্রত্যাশী যুবক থেকে শুরু করে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ৯ এপ্রিল কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও মানবসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকের ছবি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে— কবে খুলছে মালয়েশিয়ার দরজা?
উভয় দেশের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এবার দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী মুক্ত একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অনলাইন সিস্টেম এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কর্মী নিয়োগ করা হবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মানদণ্ড অনুসরণ করে ‘জিরো কস্ট’ বা অভিবাসন ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা গ্রুপ ও উপ-গ্রুপ। বিশেষ করে বিগত সরকারের সময়ে ১০টি এবং পরবর্তীতে ১০০টি এজেন্সির যে সিন্ডিকেট ছিল, তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই এখন দুদক ও আদালতে মানবপাচার ও অর্থপাচারের মামলা চলছে।
মালয়েশিয়া সরকার রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচনের জন্য ১০টি কঠোর শর্ত দিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশ এর মধ্যে প্রথম ৩টি শর্ত পূরণ করতে না পেরে সেগুলো শিথিল করেই একটি তালিকা মালয়েশিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে। কিন্তু:
সেই তালিকায় কতটি এজেন্সি আছে?
সাধারণ এজেন্সি মালিকদের দাবি, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও কেন এই গোপনীয়তা?’ তারা দ্রুত এই তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
নতুন আলোচনায় উঠে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী দাবি করেছেন, এই সিস্টেম মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দেবে। তবে মালয়েশিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য চার্লস সান্তিয়াগো এবং জননীতি বিশ্লেষক ভি ঐশ্বর্যা প্রশ্ন তুলেছেন:
শুধু ‘এআই’ ট্যাগ দিলেই কি শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা দূর হবে? এর আগে এফডব্লিউসিএমএস যেভাবে সিন্ডিকেটের হাতিয়ার হয়েছিল, এই নতুন সিস্টেম কি একই পথে হাঁটবে?
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। যদি পুরো প্রক্রিয়াকে গোপনীয়তা ও ধোঁয়াশা মুক্ত করা না যায়, তবে মালয়েশিয়া আবারও আন্তর্জাতিকভাবে চাপের মুখে পড়তে পারে।
সীমিত এজেন্সি হোক বা উন্মুক্ত ব্যবস্থা—সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সাধারণ শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা করাই এখন সব মহলের বড় চ্যালেঞ্জ।

