

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনার পর গণগ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে গ্রাম এলাকা পর্যন্ত। কেউ অসুস্থ না হলে বা কেউ মারা না গেলে ঘরে ফিরছেনা কেউ। নতুন করে আরো ২৭ জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠনো হয়েছে। সদর থানা পুলিশ ৯ জন, কোটালীপাড়া থানা পুলিশ ৮ জন, মুকসুদপুর থানা পুলিশ ৪ জন এবং কাশিয়ানী থানা পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। এ নিয়ে গোপালগঞ্জে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৩১০ জনে।
এদিকে, কারফিউ শেষ হয়ে রোববার সকাল ৬টার পর শুরু হয় জেলাব্যাপী ১৪৪ ধারা। পরীক্ষার্থী, শিক্ষার্থী, জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিস-আদালত এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকলেও সভা-সমাবেশ ও একসঙ্গে একাধিক মানুষের চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।
সকালে সীমিত আকারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছে এবং সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে। অফিস আদালত খুলেছে। তবে জনমনে গ্রেফতার আতংক থাকায় অফিস আদালতে তেমন একটা উপস্থিতি ছিলনা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে বুধবার গোপালগঞ্জে দফায় দফায় সংঘর্ষে ৪জন নিহত হন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গোপালগঞ্জে মৃত্যুর সংখ্যা দাড়ায় ৫জনে।
গত ১৬ জুলাই এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতার রেশ এখনো রয়েছে জেলা জুড়ে। সকাল ৬টায় কারফিউ শেষ হলেও আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালকে কেন্দ্র করে সারা জেলায় সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পযর্ন্ত জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। তবে শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থী ও জরুরী সেবাসমূহ আওতামুক্ত থাকলেও নিষিদ্ধ ছিল সভা, সমাবেশ ও জনসভা। আওয়ায়মী লীগ অধ্যুষিত জেলা হলেও হরতালের প্রভাব পড়েনি গোপালগঞ্জে। হরতালের সমর্থনে কোথাও কোন পিকেটিং বা মিছিল দেয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে শহরের বেশির ভাগ দোকান বন্ধ থাকায় ও সাধারণ মানুষ বাইরে বের না হওয়ায় বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষেরা। দ্রুত তারা এই অবস্থার উত্তরণ চান।
এদিকে, সংঘর্ষে ঘটনায় সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং গণগ্রেফতার বন্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপি। এসময় গণগ্রেফতার বন্ধ করা না হলে প্রতিবাদ কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানান কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস.এম মহিউদ্দিন।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করার পাশাপাশি নিরাপরাধ মানুষকে গ্রেফতার করে হয়রানি না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এনসিপির সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পযর্ন্ত তিন হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করে ৪টি মামলা করেছে পুলিশ। আর গ্রেফতার করা হয়েছে ৩১০ জনকে।
