

এম এ ফয়সাল, তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালায় মাছ চুরির অভিযোগে মৎস্যজীবী ক্ষিতিশ চন্দ্র মন্ডল (৫৫) নামের একজনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে উপজেলার জেয়ালা গ্রামের মনিন্দ নাথের পুত্র।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩ টায় উপজেলার জেয়ালা উত্তরখোলা বিলে বিশ্বনাথ ঘোষের ঘেরে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ঘের মালিক বিশ্বনাথ ঘোষসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা ঘেরে মাছ চুরির অভিযোগে বেঁধে নির্মম নির্যাতন করে। এ সময় ঘেরের মালিক ও কর্মচারী সহ ১৫/২০ জন লোক সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে বেদম পিটিয়ে পা ও হাত ভেঙ্গে দেয়। এছাড়া মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।
সংবাদ পেয়ে তার স্ত্রী সুলেখা মন্ডলসহ স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে তালা হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
স্থনীয় পার্থ প্রতীম মন্ডল, প্রকাশ মন্ডলসহ অনেকেই বলেন, লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তার ২ পা ও হাত ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে, মুখের উপর চোখের নীচে বড় ক্ষত দেখা যাচ্ছে। মাথার তালুর উপর ধারালো দা দিয়ে ৪টি কোপ দেয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাথার গভীর ক্ষত দিয়ে রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী সুলেখা মন্ডল বলেন, আমার স্বামীকে মারার খবর পেয়ে বিলে গিয়ে উদ্ধার করি। তখনও কথা বলছিলো। সে আমাকে বলেছে, বিশ্বনাথের ঘেরের কর্মচারী গপ্ফার, মৃত গোকুল ঘোষের ছেলে বিশ্বনাথ ঘোষ, মৃত জগন্নাথ ঘোষের ছেলে শিমুল ঘোষ, মোজাল গাজীর ছেলে হাবিবুর গাজী, মুজদিন খার ছেলে ইব্রাহিম খাঁ, সমর ঘোষসহ ১৫-২০ জন লোক সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে বেদম মারপিট করে। তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে, পিটিয়ে তার পা ও হাত ভেঙ্গে দেয়। আমি ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় উদ্ধার করে সকালে তালা হাসপাতালে ভর্তি করি। বেলা ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
তালা হাসপাতালের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ডাঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ক্ষিতিশ মন্ডল কে মুমূর্ষু অবস্থায় সকাল ৮টায় তালা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করারও প্রক্রিয়া চলছিল। এময় তার মৃত্যু ঘটে।
তালা থানা অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মহসিন আলী বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্টের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
