

মতিয়ার রহমান মধু, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার প্রায় তিন শত বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা আবারও বসছে। দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ মেলা। জেলার অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় এই লোকজ উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে সাতক্ষীরাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস।
দীর্ঘ বিরতির পর মেলা অনুষ্ঠিত হলেও এবার আগের মতো বিস্তৃত পরিসরে বিনোদনের নানা আয়োজন নাও থাকতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সার্কাস, যাত্রা, হাউজি, জাদু, মৃত্যুকূপ ও বিচিত্রা অনুষ্ঠানের মতো প্রচলিত বিনোদনমূলক আয়োজন সীমিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঐতিহ্যবাহী এই মেলা পুনরায় আয়োজনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, মেলার আয়োজন শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সাতক্ষীরার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
গুড়পুকুর মেলা কেবল কেনাবেচার একটি আয়োজন নয়; এটি সাতক্ষীরার লোকজ সংস্কৃতি, সামাজিক যোগাযোগ ও পারিবারিক মিলনমেলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মেলার দিনগুলোতে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে থাকা আত্মীয়স্বজনের অনেকে সাতক্ষীরা শহরে সমবেত হন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় ঘোরাঘুরি, কেনাকাটা ও আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে স্থানীয় লোকজ সংস্কৃতির পরিচয় করিয়ে দেওয়ারও সুযোগ তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ধরে গুড়পুকুর মেলা সাতক্ষীরার মানুষের আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। মেলা ঘিরে শিশু-কিশোরদের মধ্যে যেমন বাড়তি আনন্দ তৈরি হয়, তেমনি বয়স্কদের মাঝেও ফিরে আসে পুরোনো দিনের স্মৃতি। বিভিন্ন ধরনের দেশীয় পণ্য, খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সমাহার মেলার অন্যতম আকর্ষণ।
দুই বছর বন্ধ থাকার পর এবার মেলা ঘিরে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটির সংশ্লিষ্টরা। মেলাকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং বা মব সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আয়োজক কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, দীর্ঘ বিরতির পর এবারের গুড়পুকুর মেলা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী এই লোকজ আয়োজনের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে এমন প্রত্যাশাও তাদের।
