

নুরুল ইসলাম আসাদ, উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুরে চাঁদাবাজি, মারধর ও প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের জল্লা গ্রাম ও কারফা এলাকায় ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর পরপর দুটি ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জল্লা ইউনিয়নের জল্লা গ্রামের বাসিন্দা রমনি সরকার (৫৫) উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগটি করেন। এতে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা রমনি সরকারের বাড়ির সামনে গিয়ে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে গালিগালাজ করা হয়। পরে প্রতিবাদ করায় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কিল-ঘুষি মারা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এর পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে জল্লা ইউনিয়নের কারফা এলাকায় দেবদাসের রাইস মিলের সামনে দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে। সেখানে যাওয়ার পথে কয়েকজনের পথরোধ করে অভিযুক্তরা গালিগালাজ ও মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে একজন অভিযুক্ত লাঠি দিয়ে এক ব্যক্তির মাথায় আঘাত করলে তার মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। তিনি গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার একপর্যায়ে আহত ব্যক্তিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরপর দুটি ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে জল্লা ও কারফা এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তি রয়েছে। সর্বশেষ চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ সেই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ভয়ভীতি, মারধর কিংবা চাঁদা দাবির মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, একটি ঘটনার পর যদি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হতে পারে। তাই অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পাশাপাশি নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের প্রত্যাশা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ প্রভাবশালী হলেও যেন আইনের বাইরে না থাকে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান দাবি। তারা চান, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক এবং তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা হোক। একই সঙ্গে এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার মূল কারণ শুধু হামলার অভিযোগ নয়, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ। ফলে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
