

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: উৎসবমুখর পরিবেশে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান)/স্নাতক লেভেল-১, সেমিস্টার-১ শ্রেণিতে ভর্তিকৃত নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। নবীনদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সিনিয়রদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, শৃঙ্খলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা পান নবাগত শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য আলহাজ্ব মোঃ জি কে গউছ।
অ্যালাইড সায়েন্সেস বিভাগের প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মাসুম ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের প্রভাষক সাদিয়া তাসনিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সিন্ডিকেট সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব এবং হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুইপ আলহাজ্ব মোঃ জি কে গউছ নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য আজকের দিনটি আনন্দ ও আবেগের। ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে তারা শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সহপাঠীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, শিক্ষাজীবনে ভালোভাবে গড়ে উঠতে পারলে শিক্ষার্থীরা একদিন দেশের ও পরিবারের সম্পদে পরিণত হবে। দেশের কৃষিকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তাদের ভূমিকা রাখতে হবে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে-এ কথা সবসময় মনে রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারের সদিচ্ছা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীলদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে।
হুইপ জি কে গউছ বলেন, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে দ্রুত যাওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির জন্য বই কেনার লক্ষ্যে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করেছেন। এসব বই শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা (ভারপ্রাপ্ত) ও ক্রপ প্রোডাকশন বিভাগের প্রভাষক ড. জাকারিয়া চৌধুরী অনিক।
এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহকারী প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ও অ্যালাইড সায়েন্সেস বিভাগের প্রভাষক তৌকির আহামেদ, অস্থায়ী ছাত্রী হলের সহকারী প্রভোস্ট (ভারপ্রাপ্ত) ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিভাগের প্রভাষক ডা. জাকিয়া সুলতানা কলি, অস্থায়ী ছাত্র হলের সহকারী প্রভোস্ট (ভারপ্রাপ্ত) ও ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক মোঃ হাবিবুল্লাহ সিদ্দিকী।
আরও বক্তব্য দেন কৃষি অনুষদের সমন্বয়কারী শিক্ষক ও প্ল্যান্ট সায়েন্সেস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোঃ আবুবকর সিদ্দীক, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের সমন্বয়কারী শিক্ষক ও ফিশারিজ রিসোর্সেস এন্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নুসরাত হোসেন নুসি, প্রাণী চিকিৎসা ও প্রাণিসম্পদ অনুষদের সমন্বয়কারী শিক্ষক ও প্রিক্লিনিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের প্রভাষক ড. রহিমা আক্তার দীপা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের সমন্বয়কারী শিক্ষক ও বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের প্রভাষক তারানা শারমিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ বদরুল আমীন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ মোজাম্মেল হক নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জ্ঞান, দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশের কৃষি ও সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, গবেষণামুখী ও শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় তথা ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কৃষি, শিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও একাডেমিক জীবনে স্বাগত জানানো হয়।
