

সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের সিংহেরকাঠি গ্রামের ৪৭ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে ছোট মীরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বারবার জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখনো সড়কটি সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির একটি অংশে বহু বছর আগে ইটের সোলিং করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ইট উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়, ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
এ সড়ক ব্যবহার করে সিংহেরকাঠি কমিউনিটি ক্লিনিক, ৪৭ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)-এর একটি গ্রাম সমিতি, ছোট মীরগঞ্জ বাজার, স্থানীয় রাইস মিল, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন এলাকাবাসী। এছাড়া বাজারের ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষ চলাচল করেন। পাশাপাশি চাঁদপাশা ইউনিয়নের চাঁদপাশা গ্রামের একাংশের বাসিন্দারাও উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা আবুল কালাম বলেন, বছরের পর বছর ধরে আমরা এই সড়কের দুর্ভোগ সহ্য করছি। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বহুবার আবেদন করেছি, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্ষা মৌসুমে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ছোট মীরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল প্যাদা বলেন, সড়কের কারণে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। পণ্য আনা-নেওয়ায় অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে এবং অনেক সময় যানবাহন চলাচল করতে পারে না। দ্রুত সংস্কার না হলে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. জামাল হোসেন পুতুল বলেন, বিগত সরকারের আমলে তৎকালীন সংসদ সদস্য সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেটি বাতিল করে অন্য এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। এরপর আর সড়কটির উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। আমরা বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলিম বলেন, সড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, সড়কটির বিষয়ে লিখিত আবেদন বা প্রস্তাব পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হবে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের স্বার্থে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে চলাচল উপযোগী করা হোক। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান চান তারা।
