ঢাকা
১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সন্ধ্যা ৭:৫০
logo
প্রকাশিত : মে ১৬, ২০২৬

স্বামীকে হত্যার পর টুকরো ‍টুকরো, ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা

শরীয়তপুরের চন্দ্রপুর এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে রড দিয়ে আঘাত করে হত্যার পর মরদেহ ছুরি দিয়ে টুকরো টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখার অভিযোগ উঠেছে আসমা আক্তার নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। তিন দিন পর মরদেহের অংশ বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দিয়ে মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে গিয়ে দুর্গন্ধে স্থানীয়দের সন্দেহ জাগে। পরে পুলিশকে খবর দিলে গ্রেপ্তার হন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদে সব কিছু স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আসমা।

জানা গেছে, পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা আসমা আক্তারের সঙ্গে শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদ এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদারের পরিচয় হয়েছিল মোবাইল ফোনে। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রায় আট বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। এটি দুজনের জন্যই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। বিয়ের পর জিয়া সরদার আসমাকে শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় রাখেন।

গত বছর জিয়া সরদার দেশে ফিরলে দুজনে মিলে চন্দ্রপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। এরপর থেকেই দাম্পত্য কলহ বাড়তে থাকে। সেই কলহের জেরে চলতি মাসের ১২ মে রাতে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে আসমা স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে জিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং মারা যান।

মরদেহ লুকানোর উদ্দেশ্যে আসমা এরপর ছুরি দিয়ে দেহটি কয়েক টুকরো করেন এবং হাড় ও মাংস আলাদা করে ড্রামে ভরে রাখেন। তিন দিন পর, শুক্রবার সন্ধ্যায় অটোরিকশা ভাড়া করে ড্রাম থেকে মরদেহের একটি অংশ বস্তায় ভরে আটং এলাকার বৃক্ষতলায় ফেলে আসেন। নিহতের চার হাত-পা ফেলা হয় নড়িয়ার পদ্মা নদীর তীরে, যেগুলো পরে নড়িয়া থানা পুলিশ উদ্ধার করে।

এরপর দেহের মাংসের অংশ নিয়ে আসমা যান শহরের পালং এলাকায় তার পুরনো ভাড়া বাসার এক ভাড়াটিয়ার ফ্রিজে রাখতে। কিন্তু তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। পুলিশ এসে আসমাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তিনি সব কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে নয়টার দিকে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করা হয়।

নিহত জিয়া সরদারের আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, ‘আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালীন ওই নারীকে বিয়ে করেন। ভাই দেশে আসার পর আলাদা একটি জায়গায় বাসাভাড়া নিয়ে থাকতো। কিছুক্ষণ আগে খবর পেয়েছি ভাইকে নাকি ওই নারী হত্যা করে ড্রামে ভরে মরদেহ ফেলে রেখেছে। ঘটনাস্থলে এসে দেখি সত্যিই এমনটা হয়েছে। পুলিশ ওই নারীকে আটক করেছে। আমি অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’

অভিযুক্ত আসমা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী প্রায়ই আমাকে মারধর করতো। ১২ মে রাতে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করলে সে মাটিতে পড়ে যায়। আমি বুঝতে পারিনি এতো জোরে আঘাত লাগবে। পরে চাকু দিয়ে মরদেহ টুকরো করে কয়েক জায়গায় ফেলে দেই। আমি একটা পিঁপড়াও মারিনি। কিন্তু এই ঘটনা কীভাবে ঘটে গেলো বুঝতে পারিনি।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘আসমা তার স্বামী জিয়া সরদারকে হত্যার পর মরদেহের হাত-পা টুকরো করে মাংস আলাদা করে ফেলে। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় ড্রামে ভরে অটোতে করে মরদেহের বিভিন্ন অংশ কয়েকটি জায়গায় ফেলে রাখেন। পরে মাংসগুলো তার সাবেক ভাড়াবাসায় ফ্রিজে রাখতে গেলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা জরুরি সেবা নম্বরে কল দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ড্রাম খুলে বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাকে জিজ্ঞেস করলে সব কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করি। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, সে ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।’

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram