

মনীষ সরকার রানা, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: পেশাগত মর্যাদা রক্ষা ও নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ এসোসিয়েশন (ফারিয়া) বামনডাঙ্গা শাখা।
সোমবার (১১ মে) সকালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের শিববাড়ি মোড়ে মানববন্ধন শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনারে এসে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
গত ৪মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল বিরোধী অভিযান চালায় এনএসআই ও পুলিশ। সেই অভিযানে বহু দালালদের সঙ্গে ১৯ জন ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভকে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তাঁরা হাসপাতাল ভিজিটের জন্য বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের পরও হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যাচাই-বাছাই করে তাঁদের ছেড়ে দেন।
সে ঘটনার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে, বামনডাঙ্গা ফারিয়া মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে ফারিয়ার বামনডাঙ্গা শাখার সভাপতি ও জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বাবুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জেলা ফারিয়ার সভাপতি মোঃ রবিউল ইসলাম। আরো বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মোঃ শাহাদাত হোসেন সাগর, বামনডাঙ্গা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ পাভেল মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফেরদৌস আলমসহ বামনডাঙ্গা ফারিয়ার অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
এসময় বক্তারা বলেন, "আমরা দেশের স্বাস্থ্য খাতে কাজ করি। দেশে উৎপাদিত ওষুধ এবং সেই ওষুধ সেবনের বিধিনিষেধ সম্পর্কে চিকিৎসকদের অবগত করি। হাসপাতালে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে কোনোভাবেই আমাদের কেউ সম্পৃক্ত নয়। তবুও আমাদের শুনতে হয়, আমরা দালাল। হাসপাতালে কোনো রোগীর সঙ্গে, কোনো চিকিৎসকের সঙ্গে আমরা প্রতারণা করেছি, এটি কেউ বলতে পারবে না। ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টরটি বাংলাদেশের আর্থিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই সেক্টরে সুনির্দিষ্ট একটি নীতিমালা তৈরি করে দিতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যাতে কাজের নিরাপদ পরিবেশ এবং আমাদের মর্যাদা নিশ্চিত হয়। এই সেক্টরকে বাঁচাতে হলে এই নীতিমালা খুবই জরুরি।"
‘অধিকার আদায়ে আমরা সবাই একসাথে’—স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন- মোঃ নুরুজ্জামান মিয়া। সমাবেশে বামনডাঙ্গা ফারিয়ার সভাপতি মোঃ রাশেদুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘আজকে আমাদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে এই কর্মসূচি। মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা এ দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের এক অপরিহার্য অংশ। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, তাঁদের পেশাগত মর্যাদা নিয়ে বারবার ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। চিকিৎসা প্রতিনিধিরা কোনোভাবেই দালাল নন, বরং তাঁরা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক দক্ষ কারিগর। তাই এই পেশার রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সেবাদানকারী এই মানুষগুলোর চাকরির নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম মর্যাদা আজ সংকটের মুখে। অনতিবিলম্বে হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রিপ্রেজেন্টেটিভদের কাজ করার পথে সকল বাধা দূর করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
সমাবেশ শেষে ফারিয়ার বামনডাঙ্গার সভাপতি- মোঃ রাশেদুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
