

মো. নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজে অনার্স শেষ বর্ষের এক ছাত্রীর হিজাব পরাকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত পরীক্ষার খাতা ৪০ মিনিট আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে একই কলেজের গনিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ পরানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর ওই শিক্ষককে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর পক্ষে তার আইনজীবী মামা এডভোকেট আবদুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার কিশোরগঞ্জ শহরের পৌর মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী। তিনি গত ৩০ এপ্রিল গুরুদয়াল সরকারি কলেজের আবদুল হামিদ ভবনের ৫০৪ নম্বর কক্ষে ‘মুদ্রা, ব্যাংকিং ও অর্থায়ন’ বিষয়ে তার পরীক্ষা দেওয়ার সময় এ ঘটনাটি ঘটে।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক ও কলেজ অধ্যক্ষের দাবি, পরীক্ষার্থীর পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং ডিভাইসের ব্যবহার রোধ করতে পরীক্ষার হলের নিয়ম অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
অ্যাডভোকেট আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিনের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, তার ভাগ্নি সুমাইয়া আক্তার শহরের পৌর মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগ থেকে অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষা দিচ্ছেন। সুমাইয়ার আসন পড়েছে শহরের গুরুদয়াল সরকারি কলেজে। গত ৩০ এপ্রিল মুদ্রা, ব্যাংকিং ও অর্থায়ন বিষয়ে পরীক্ষা শুরু হয় দুপুর ১টায়। সুমাইয়া আক্তার ও অপর পরীক্ষার্থী মনিরা হিজাব পরিহিত ছিলেন এবং ওই কক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন গুরুদয়াল সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ পরান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরীক্ষা চলাকালীন ১টা ৪৫ মিনিটে তিনি উল্লেখিত দুই পরীক্ষার্থীকে হিজাব খুলে চেহারা দেখাতে বলেন। সুমাইয়া তখন একজন মহিলা শিক্ষক বা মহিলা পুলিশের সামনে হিজাব খোলার জন্য বলেন। কিন্তু শিক্ষক শাহ পরান এ কথায় কর্ণপাত না করে নিজেই শক্তি প্রয়োগ করে দু’জনের হিজাব উন্মুক্ত করেন। মহিলা শিক্ষক ও মহিলা পুলিশের কথা বলায় সুমাইয়া আক্তারকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে পরীক্ষার খাতা নিয়ে আটকে রাখেন। অনেক অনুরোধের পর ৪০ মিনিট অতিবাহিত খাতাটি ফেরত দেন তিনি। এতে সুমাইয়ার পরীক্ষার যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে।
অ্যাডভোকেট আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিন আরও দাবি করেন, ওই শিক্ষক যে কোনো সময় সুমাইয়াকে বহিষ্কার করতে পারেন বলেও হুমকি দিয়েছেন। এরপর থেকে সুমাইয়া আক্তারের মনে একটা ভীতি কাজ করছে যার নেতিবাচক প্রভাব পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর ওপর পড়তে পারে।
অপরদিকে অ্যাডভোকেট আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিনের মাধ্যমে পাঠানো উকিল নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে কেন মহামান্য হাইকোর্ট বা অন্য কোনো অধীনস্থ আদালতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, এই মর্মে উপযুক্ত কারণ দর্শাতে হবে। নতুবা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনের বিধানমতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে বলেন, এখনো আমার সাতটি পরীক্ষা বাকি আছে। ওই শিক্ষক শাহ পরান আমাকে বহিষ্কারের ক্ষমতা রাখেন বলে হুমকি দিয়েছেন। যে কারণে আমার মনে এক ধরনের ভয় তাড়া করছে।
শিক্ষক শাহ পরানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরীক্ষার হলে এ ধরনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়, বাধার মুখেও পড়তে হয়। আমি সুমাইয়ার সামনের আসনের পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে যাচাই করার জন্য হিজাব খুলতে বললে তিনি সবসময় হিজাব ব্যবহার করেন বললে আর তাকে কিছু বলিনি। সুমাইয়াকে হিজাব খুলতে বলতেই বলে ওঠেন, আপনি যেভাবে বলছেন, তাতে তো হিজাব না খুলে উপায় নেই। সুমাইয়া নিজেই হিজাব খুলেছেন। তার কথাগুলো এতটাই অশোভন ছিল যে তাকে আমি বহিষ্কার করতে পারতাম কিন্তু তা আমি করিনি। তবে খাতাটি ১০/১৫ মিনিটের মতো আটকে রেখেছিলাম। তিনি আরও বলেন, মহিলা শিক্ষক বা মহিলা পুলিশের সামনে হিজাব খোলার কথা সুমাইয়া বলেননি।
এ বিষয়ে গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সিদ্দিক উল্লাহ এ প্রতিনিধিকে জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে উকিল নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি তিনি অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

