

আবারও বড় ধরনের জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে দেশ। এবার রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জাতীয় সংসদ ভবন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা হামলা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে বেশ অনেক দিন পর নড়েচড়ে বসেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর জেল পলাতক অনেক জঙ্গির বাইরে চলে আসা এবং নিষিদ্ধ বিভিন্ন জঙ্গি গ্রুপের নাশকতা ও অপতৎপরতার বিষয়টিকে সংবেদনশীল বিবেচনায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়ে পুলিশ সংবাদ সম্মেলনও করেছে।
জঙ্গি হামলার বিষয়টি অবগত হওয়ার পর পুলিশ সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে একটি চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিটি হাতে এসেছে। ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) স্বাক্ষরিত ওই চিঠি থেকে জানা যায়, জঙ্গি সংগঠনের সমর্থক কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে।
সম্প্রতি গ্রেপ্তারকৃত নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ ওরফে সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে মোহাম্মদের সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুজন ‘সেনা সদস্যের’ নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তারা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা বিস্ফোরণ, দেশীয় ধারালো অস্ত্র কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা চালাতে পারে। দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য তারা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরপত্তা জোরদারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।
এ ছাড়া নজরদারি বাড়িয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে।মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, দেশে সম্ভাব্য হামলা নিয়ন্ত্রণে ওই চিঠিটি মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ সারা দেশে রেঞ্জ ডিআইজি এবং সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটকে দেওয়া হয়েছে। বাহিনীর ইউনিটপ্রধানদের কাছে পাঠানো এসংক্রান্ত এক বার্তায় ‘নিরাপত্তা জোরদারের’ কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সারা দেশে সন্দেহজনক জঙ্গিদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে।
সূত্র বলছে, জেল পলাতক মৃত্যুদণ্ড ও সাজাপ্রাপ্তসহ সারা দেশে এখনো দেড় হাজারের বেশি উগ্রবাদী সক্রিয় রয়েছে।
তাদের প্রধান টার্গেটের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জাতীয় সংসদ ভবন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি দেশীয় ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হতে পারে। সূত্র : পুলিশ ও গোয়েন্দা।
যা বলছে গোয়েন্দা সূত্র
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, দেশব্যাপী জঙ্গি হামলার আশঙ্কার খবর পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে জানিয়েছে। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদেরও এ বিষয়ে অবহিত করা হয়। এরপর সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেড় বছর ধরে দেশে উগ্রবাদী নেই, জঙ্গি নেই বলে যা বলা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। এই বলে দেড় বছর ধরে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) সংগঠনটি অকার্যকর করে রাখা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বল দৃষ্টিভঙ্গির সুযোগেই মূলত দেশে উগ্র মৌলবাদীদের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সামনে দেশে বড় সমাবেশ-অনুষ্ঠানকে বোমা হামলার লক্ষ্যবস্তু করে উগ্রপন্থীরা সংগঠিত হচ্ছে। শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এরই মধ্যে কয়েকবার এমন আশঙ্কা করে তৈরি প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর পরই সংশ্লিষ্ট সবাই নড়েচড়ে বসেছে। কয়েক দিন ধরে পুলিশ সদর দপ্তরে এ নিয়ে জরুরি সভাও হয়। সভায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যসহ সব গোয়েন্দা সংস্থাকে তৎপর থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
গতকাল শনিবার এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, দেশে বর্তমানে ২০টির বেশি জঙ্গি সংগঠন রয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি), আল্লাহর দলসহ শাহাদাত-ই-আল হিকমা, হরকাতুল জিহাদ (হুজি), জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশসহ (জেএমজেবি) হিযবুত তাহরীরকে নিষিদ্ধ করা হয়। এর পরও ছদ্মনাম ব্যবহার করে জঙ্গি নেতারা সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর দেশের কয়েকটি কারাগারে বিশৃঙ্খলা করে বন্দিরা। বিভিন্ন কারাগারে হামলা-ভাঙচুরের পর পালিয়ে যায় মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ও জঙ্গিবাদে অভিযুক্ত আসামিরা। এ সময় বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে পলাতক যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৯৮ জন আসামি রয়েছে। পলাতকদের মধ্যে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৭৯ জন আছে। এর মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ৯ জন। এর আগে বকশীবাজারে অবস্থিত কারা অধিদপ্তরে কারা নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন এ কথা বলেন।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক হামলা পরিকল্পনায় থাকা জঙ্গিদের মধ্যে কারাগার থেকে পলাতক জঙ্গিরা রয়েছে। এ ছাড়া দেশীয় জঙ্গি সংগঠনের পাশাপাশি দেশের বাইরের দুটি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি) ও তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) এজেন্টরা নানা সুযোগে বাংলাদেশে ঢুকছে। দেশের বাইরের উগ্রপন্থী জঙ্গিদের ওপর নজরদারি করতে গিয়ে এরই মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে একজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য মেলে যে, এলইটি ও টিটিপি বোমা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে গোয়েন্দা সংস্থা বুঝতে পারে, দেড় বছর ধরে জঙ্গি না থাকার যে বয়ান তৈরির চেষ্টা চলেছে, তা আসলে সঠিক নয়।
অপরাধ বিশ্লেষক ও জঙ্গি নিয়ে কাজ করা গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ২০০৫ সালের ৭ আগস্ট দেশব্যাপী একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়ে ভয়ংকর জঙ্গি সংগঠন জেএমবি শক্তি প্রদর্শন করে; যদিও এর আগেই জঙ্গি সংগঠনগুলোর উৎপত্তি। এরপর এখনো জঙ্গিবাদের প্রকৃত অবস্থা বদলায়নি; বরং বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আরো কৌশলী হচ্ছে জঙ্গি সংগঠনগুলো। দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল হয়েছে—এমন দাবি করা অমূলক।
বাংলাদেশে টিটিপির সাম্প্রতিক তৎপরতা
দুবাইয়ে যাওয়ার কথা বলে বাংলাদেশের মাদারীপুরের এক যুবক গিয়েছিলেন পাকিস্তানে। কিন্তু তিনি যোগ দেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন টিটিপিতে। গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হন ফয়সাল মোড়ল (২১) নামের সেই যুবক। এই ঘটনার পর বাংলাদেশে আবারও টিটিপির কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকায় জঙ্গিবিষয়ক কাজে যুক্ত পুলিশের কিছু সূত্র মতে, টিটিপির জন্য বাংলাদেশ থেকে জনবল সংগ্রহ করার একটি প্রক্রিয়া অনেক দিন ধরেই সক্রিয় আছে। ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হায়দার নামের এক ব্যক্তি ওই সংগঠনের হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে বাংলাদেশিদের উদ্বুদ্ধ ও সংঘবদ্ধ করে থাকেন বলে জানা গেছে।
সিটিটিসির ব্রিফিং
ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন গতকাল রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সারা দেশে জঙ্গি হামলার তথ্য পাওয়ার পর সিটিটিসি, সাইবার ইন্টেলিজেন্সসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
এ সময় মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে, এর জন্য আপনারা কী করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, আমরা কাজ করছি।’ কিভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা গোপনীয় বিষয়।
তিনি আরো বলেন, ‘কতজন জঙ্গি পলাতক আছে, কতজন গ্রেপ্তার এবং কতজন গ্রেপ্তারই হয়নি—এসব তথ্যও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে আছে। এ থেকে উত্তরণে সবার একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। এ জন্য অনেকে কাজ করছে। আরো বেশি সমন্বয় করে কাজ করা জরুরি বলে মনে করছি।’
ডিএমপির জঙ্গি দমনের জন্য গঠিত এই বিশেষায়িত ইউনিটের কর্মকর্তা নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়ে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা কাজ করছি, ইনশাআল্লাহ আমরা এটাকে ফেস করতে পারব।’
এর আগে কেরানীগঞ্জের একটি মাদরাসায় বিস্ফোরণ হয়েছিল। সেই থেকে জঙ্গি নিয়ে যারা কাজ করে তারা চিন্তিত। তাদের হাতে যে সরঞ্জাম ছিল, তা বাইরে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে মনে করা হচ্ছে, বড় একটি আশঙ্কা রয়েছে।
এর জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা তো আমাদের সিকিউরিটি প্ল্যানিং, এটা আমার মনে হয় আপনাদের কাছে বলার বিষয় না। আমরা সিকিউরিটি প্ল্যানিং অনুযায়ী যে স্থানগুলোর তথ্য এসেছে, আমরা এ বিষয়ে কাজ করব। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। সুতরাং আমার মনে হয় এখন মন্তব্য করার সময় আসেনি।’
যা বলেছিলেন সাবেক কমিশনার
এর আগে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ‘দেশে জঙ্গি নেই’ বলে মন্তব্য করে আলোচিত হন। এমনকি ‘আওয়ামী লীগের সময় জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ছেলেপেলেদের মারছে, কিসের জঙ্গি’—এমন মন্তব্যও তিনি করেন।
সাজ্জাত আলী ডিএমপি কমিশনার থাকা অবস্থায়ই গত ৩১ জানুয়ারি জঙ্গি সন্দেহে রাজধানীর জিয়া উদ্যান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আহসান জহির খান (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে। ওই ঘটনায় শেরেবাংলানগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ। তাঁকে গ্রেপ্তারের সূত্র ধরে পরবর্তীকালে আরো চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় সিটিটিসি। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তিনি অনলাইনে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এবং দাওলাতুল ইসলামের (আইএস) পক্ষে উগ্রবাদী পোস্ট শেয়ার করে সদস্য সংগ্রহে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া বোমা তৈরির পিডিএফ ফাইল ছড়ানো এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে শিয়া মসজিদ, পুলিশের চেকপোস্ট ও ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা এবং উসকানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
শেরেবাংলানগর থানায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আহসান জহির খান, দানিয়েল ইসলাম হাসান ও রাসেল ওরফে পলাশ ওরফে আবু বাছের আল ফারুকীর সঙ্গে ওই কিশোরের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। বিধি অনুযায়ী তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, কিশোরটির বয়স আনুমানিক ১৬ বছর।
এই মামলায়ই গত ২ এপ্রিল নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ‘নব্য জেএমবির’ সঙ্গে জড়িত হবিগঞ্জ থেকে এক শিশুকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানায় ডিএমপি। পরদিন ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, জিয়া উদ্যান থেকে গ্রেপ্তার আহসান জহির ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে হবিগঞ্জ থেকে হেফাজতে নেওয়া ওই শিশুর যোগাযোগ আছে। সে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে শিয়া মসজিদ, পুলিশের চেকপোস্ট ও ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা ও উসকানি দিত বলে দাবি করছে পুলিশ।
যা বলছেন মেট্রোপলিটন কমিশনাররা
জানতে চাইলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, এই তথ্য পেয়ে গোয়েন্দাভিত্তিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, ‘জঙ্গি হামলার তথ্য পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ সব দিকেই আমাদের সতর্ক নজরদারি রয়েছে।’
সিএমপি এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তালিকায় কী পরিমাণ উগ্রপন্থী সংগঠনের সদস্য রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তালিকা তো নিশ্চয় আছে, তবে কী পরিমাণ সদস্য আছে সেটা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না, তালিকা দেখে পরে বলা যাবে প্রকৃত চিত্র।’
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে গতকাল বলেন, ‘আমাদের কনফিডেনশিয়াল বিভাগ থেকে এ ব্যাপারে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। চিঠিটি প্রতিটি ইউনিটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা কাজ করছে।’
জঙ্গি দমনে নিয়োজিত পুলিশের বিশেষায়িত একটি ইউনিটের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা বলছেন, সামনে জঙ্গি তৎপরতা আরো বাড়বে।
পুলিশ বলছে, গত এক বছরে (২০২৫) নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের অন্তত ৫১ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরই মধ্যে কেরানীগঞ্জে মাদরাসায় ও জাজিরায় বিস্ফোরণ
গত ২৬ ডিসেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল বিধ্বস্ত হয়েছে। পাশের সিএনজি গ্যারেজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি শরীয়তপুরের জাজিরায় একটি বাড়িতে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনার পর সম্প্রতি যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়েছে জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নে। অভিযানে গ্রামের বাড়িঘর ও বিভিন্ন ঝোপঝাড়ে তল্লাশি চালিয়ে ডগ স্কোয়াডের সহায়তায় ৪৫টি তাজা ককটেল ও বোমা বানানোর বিভিন্ন সরঞ্জামসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
সুত্র: কালের কণ্ঠ

