

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার: সমুদ্রে জেলেদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাছ ধরার নৌযানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা।
সোমবার (১৩ এপ্রিল, ২০২৬) সকালে কক্সবাজার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে কোস্ট ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘সমুদ্রে জেলেদের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্বব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন “সাসটেইনেবল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশন (স্মার্ট)” প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন স্মার্ট ড্রাই ফিশ উপ-প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আজমল হুদা সিদ্দিকী। তিনি বলেন, বর্তমানে সাগরে মাছ ধরার সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নৌ দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। স্মার্ট প্রকল্পের মাধ্যমে জেলেদের নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সমুদ্রে নিরাপদ নৌ চলাচলের জন্য সহজ নেভিগেশন পদ্ধতি, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ, ভিএইচএফ রেডিও ও ইকো-সাউন্ডার ব্যবহার, লাইফ জ্যাকেটসহ জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়ে জেলেদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজারের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বেইস স্বপ্নীল সিন্ধুর কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন এম. হাবিবুল মওলা, বাংলাদেশ সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশরাফুল হক, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজয় পাল। এ ছাড়া কর্মশালায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নারী উদ্যোক্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় নৌযানে ভিএইচএফ রেডিও, জিপিএস, ইকো-সাউন্ডার, আধুনিক সংকেত ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম থাকা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি জেলেদের জন্য সময়মতো আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিশ্চিত করা এবং সংকট মুহূর্তে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তাঁরা আরও বলেন, জেলে নিবন্ধন, বোট নিবন্ধন এবং সমুদ্রে যাওয়ার আগে আবহাওয়ার তথ্য জানা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। প্রতিটি নৌযানে প্রয়োজন অনুযায়ী লাইফ জ্যাকেটসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা সমুদ্রে জেলেদের নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিভিন্ন ঝুঁকি, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলাকালে করণীয় এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তাঁরা।
কর্মশালায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, জেলা মৎস্য অধিদপ্তর, আবহাওয়া অধিদপ্তর, সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সংস্থার মোট ৫১ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
শেষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কোঅর্ডিনেটর জিয়াউল করিম চৌধুরীর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মশালার কার্যক্রম শেষ হয়।
