

মাসুদ রানা, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: বিভিন্ন গণমাধ্যমে “ভ্যাকসিন সংকটে চিকিৎসা ব্যাহত” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় জলাতঙ্ক (রেবিস) ভ্যাকসিন ও এন্টি ভেনাম সরবরাহ করা হয়েছে। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংকটের অবসান হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইউএনও কার্যালয়ের মাধ্যমে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব ভ্যাকসিন ও এন্টিভেনম হস্তান্তর করা হয়। এর ফলে কুকুর, বিড়াল, শিয়াল ও বানরের কামড়ের পাশাপাশি সাপ, বিচ্ছু ও অন্যান্য বিষধর প্রাণীর আক্রমণে আহত রোগীরা এখন সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পাবেন।
চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র ঘাটতি ছিল। ফলে সরকারি হাসপাতালে টিকা না পেয়ে অনেক রোগী বাধ্য হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছিলেন, আবার কেউ কেউ চিকিৎসা ছাড়াই ফিরে যাচ্ছিলেন। এতে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এরপর দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে প্রাথমিকভাবে ১৪৮ ডোজ জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন এবং ৪৮টি এন্টি ভেনাম সংগ্রহ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহনিমা তরফদার বলেন, “আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর দেখেছি এখানে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন ছিল না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এখন ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে, যা রোগীদের চিকিৎসায় সহায়ক হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার জানান, “প্রাথমিকভাবে উপজেলা পরিষদের তহবিল ব্যবহার করে ভ্যাকসিন ও এন্টি ভেনাম সরবরাহ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাতঙ্ক একটি শতভাগ প্রাণঘাতী রোগ হলেও সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে এটি পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে প্রাণঘাতী প্রাণীর কামড়ের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ফলে প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে তারা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আবারও একই সংকট দেখা দিতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

