ঢাকা
২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সকাল ১০:৫৯
logo
প্রকাশিত : এপ্রিল ৪, ২০২৬

সারের নীতিমালা নিয়ে বিতর্ক ও উদ্বেগ

দেশে সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে প্রণীত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫ ঘিরে তৈরি হয়েছে নানান বিতর্ক ও উদ্বেগ। সারা দেশে সার সরবরাহকারী ৪৬ হাজার ডিলার ও বিশেষজ্ঞদের মত উপেক্ষা করে নতুন এ নীতিমালা জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। পুরো সার সরবরাহ সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিতে কোনো কারণ ছাড়াই নতুন নীতিমালা জারি করে বিগত সরকার।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এ নীতিমালা কৃষি খাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে এবং মাঠপর্যায়ে সার সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। সার না পেয়ে মব সৃষ্টি হতে পারে ডিলারদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি মহলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে তড়িঘড়ি এ নীতিমালা তৈরি করা হয়েছিল। ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন সামনে এসেছে।

জানা গেছে, দেশে কৃষি খাতে সার সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা না থাকায় চরম বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্ত করতে ১৯৯৫ সালে বিএনপি সরকার প্রথম নীতিমালা জারি করে। ওই নীতিমালা জারি করে দেশের সার ব্যবসায় যে বড় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল সেটা পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর ১৯৯৭, ২০০৩ এবং সর্বশেষ ২০০৯ সালে সরকার সুষ্ঠু সার সরবরাহে নীতিমালা জারি করে। ২০০৯ সালের নীতিমালার আওতায় দীর্ঘদিন ধওে দেশে সার সরবরাহব্যবস্থা একটি সুসংগঠিত কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকের দোরগোড়ায় সময়মতো সার পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে এবং বড় ধরনের অনিয়ম বা সরবরাহ সংকটের অভিযোগও তুলনামূলক কম। ২০২৫ সালে কোনো কারণ ছাড়াই অন্তর্বর্তী সরকার নতুন সিন্ডিকেটের হাতে সার সরবরাহের ব্যবসা তুলে দিতে নতুন নীতিমালা জারি করে। ২০০৯ সালের নীতিমালা উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট কয়েকজনের হাতে এ ব্যবসা তুলে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সার ডিলার প্রতিনিধি মো. জালাল উদ্দীন শেখ বলেন, ‘যে নীতিমালা করা হয়েছে সেটা বাস্তবায়ন হলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। কোথাও কোথাও বেশি সার পাবে কোথাও কেউ পাবে না। প্রান্তিক অঞ্চলে লাখ লাখ টাকার সার মজুত করতে হবে কোনো নিরাপত্তা ছাড়া। এটা কেউ করবে না। এতে যারা সার না পাবে তারা অন্য ডিলারদের গুদাম লুট করবে। যে মব সন্ত্রাস বিগত সরকার চালু করেছে তার ভয়াবহ পরিস্থিতি সার সরবরাহের ক্ষেত্রেও পড়বে। তাই সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, কৃষি খাতে অস্থিরতা যাতে ফিরে না আসে সেজন্য এ নীতিমালা বাতিল করতে হবে।’

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ‘পুরোপুরি অযৌক্তিকভাবে সার নীতিমালা জারি করা হয়েছে। রাজনৈতিক চিন্তা থেকে এটি করেছে একটি মহল; যা সার সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে। একটি স্থিতিশীল সরবরাহব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে না ফেলে প্রয়োজন হলে বিদ্যমান ২০০৯ সালের নীতিমালায় আংশিক সংশোধন এনে যুগোপযোগী করা যেতে পারে।’

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram