

নর্থ লন্ডনের এক বিত্তশালী পরিবার তাদের এক বছর বয়সী ছোট সন্তানকে ‘ইংরেজ ভদ্রলোক’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। তারা বার্ষিক ১ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি টাকা) বেতনে একজন অসাধারণ গৃহশিক্ষক খুঁজছে। এই অদ্ভুত চাকরির বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। খবর বিবিসির।
পরিবারটি জানায়, তাদের বড় সন্তানের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিল। কিন্তু তাদের মতে, ততদিনে সন্তানের মধ্যে তাদের পারিবারিক সাংস্কৃতিক পক্ষপাত গেঁথে গিয়েছিল। এই সাংস্কৃতিক পক্ষপাত বলতে তারা বোঝায়— কথা বলার ভঙ্গি, খাওয়ার ধরন এবং সূক্ষ্ম অ-মৌখিক অভ্যাস। তারা চায় না এই নবজাতকের ক্ষেত্রে একই ইতিহাস পুনরাবৃত্তি হোক।
পরিবারের পরিকল্পনা হলো, একজন ব্রিটিশ শিক্ষক নিয়োগ করা যিনি নিখুঁত ব্রিটিশ উচ্চারণে কথা বলবেন এবং শুরু থেকেই শিশুটিকে প্রভাবিত করবে।
টিউটরস ইন্টারন্যাশনাল-এর এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডাম কলার এই পরিবারকে শিক্ষক খুঁজে দিতে সাহায্য করছেন। তিনি এই ধারণাটিকে দূরদর্শী বলে মনে করেন। তিনি জানান, পরিবারটির ইচ্ছা, শিক্ষক এমন হতে হবে যিনি নিখুঁত ব্রিটিশ উচ্চারণে কথা বলবেন, যাতে এই ব্রিটিশ বৈশিষ্ট্যগুলি শিশুটিকে প্রভাবিত করে।
চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষককে হতে হবে মার্জিত, ব্রিটিশ সংস্কৃতির অনুরাগী, ঘোড়দৌড় ও অপেরায় আগ্রহী। তিন বছর বয়সের মধ্যেই শিশুটিকে ঘোড়া চালানো, বাদ্যযন্ত্র বাজানো ও ‘ভদ্রভাবে নিজেকে উপস্থাপন’ শেখাতে হবে।
তবে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ধারণার সমালোচনাও রয়েছে। পিটার কুই নামে একজন ব্যক্তিগত শিক্ষক এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, এই ধারণাটিকে আদর্শবাদী ও অবাস্তব বলে অভিহিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, সাংস্কৃতিক পরিচয় বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া যায় না; এটি অবশ্যই বেছে নিতে হয় এবং ভেতর থেকে আসতে হয়।
অন্যদিকে, এমিকেট একাডেমি-এর লরা উইন্ডসর মনে করেন, শৈশবে শুরু করলে এই ভদ্রতা শিশুর মধ্যে সহজাত অভ্যাসে পরিণত হয় এবং এটি প্রথম দেখাতেই অন্যদের প্রভাবিত করে, যা জীবনে সুযোগ এনে দেয়।
