

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে এফবি সাগরকন্যা নামের একটি মাছ ধরা ট্রলারসহ এক জেলের মরদেহ ভেসে এসেছে। নিহত জেলের নাম ইদ্রিস (৫০), তার বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার মধুখালীতে।
বৃহস্পতিবার সকালে সৈকতের ডিসি পার্ক সংলগ্ন সাগরে ট্রলার ও লাশটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে নৌ পুলিশের একটি টিম লাশটি উদ্ধার করেন। এ সময় লাশের পরনে একটি লাল গেঞ্জি ও কালো প্যান্ট ছিল। লাল গেঞ্জি ও কালো প্যান্ট দেখে লাশের পরিচয় সনাক্ত করেন তার ভাতিজা সাগর।
নিহত জেলের ভাতিজা সাগর বলেন, ২৫ জুলাই ঐদিন ট্রলারে চাচার সাথে আমিও ছিলাম। ট্রলারটি যখন ডুবে যায় তখন চাচাও ডুবে যায়। তখন চাচার পরনে লাল গেঞ্জি ও কালো প্যান্ট ছিলো।
গত ২৫ জুলাই সকাল ১০ টার দিকে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের শেষ বয়া থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার গভীরে ট্রলারটি ঢেউয়ের কবলে পরে ডুবে যায়।
এর আগে ২৩ জুলাই মহিপুর থেকে ১৫ জেলে নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারের উদ্দেশ্য রওনা দেন ট্রলারটির মাঝি আবদুর রশিদ। সাগরে চারদিন ভেসে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৯ জেলে। এরপরে নিখোঁজ ৬ জেলের মধ্যে নজরুল ইসলাম নামে একজনের মরদেহ গত শুক্রবার ১ আগস্ট কুয়াকাটার মীরা বাড়ি সংলগ্ন সৈকত থেকে উদ্ধার করা হয়। এখনো আবদুর রশিদ, রফিক, হারুন ও কালামসহ ৪ জন নিখোঁজ রয়েছে।
জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাল ফেলার কিছু সময় পরই হঠাৎ এক ঝড় ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। মুহূর্তেই ট্রলারটি দুমড়ে-মুচড়ে ডুবে যায়। শুরুতেই একজন জেলে ঢেউয়ের তোড়ে নিখোঁজ হন। এরপর বাঁশ ও ফ্লুটের ধরে ১৪ জন ভাসতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে আরও ৫ জন ঢেউয়ের তোড়ে নিখোঁজ হয়ে যান।
এরপরে ভাসতে ভাসতে তারা শেষ বয়া সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে সোমবার রাতে দুটি মাছ ধরার ট্রলার ৯ জনকে উদ্ধার করে মহিপুর মৎস্য বন্দর নিয়ে আসেন।
কুয়াকাটা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ মন্ডল জানান, কুয়াকাটা ডিসি পার্ক সংলগ্ন সৈকতে একটি ট্রলারসহ এক জেলের মরদেহ ভেসে আসছে। স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করি। মরদেহটির সুরহাতাল শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
