২০০ টাকায় সন্তানকে বিক্রি আদিবাসী পরিবারের

tripura8851

তেলিয়ামারু (ত্রিপুরা): অভাবের তাড়নায় মানুষ কী কী করতে পারে, তার ইয়ত্তা নেই। কখনও কখনও তা বোধহয় ঠিক করে দেয় একটি শিশুর আর্থিক মূল্যও। পরিবারের পেটের জ্বালার কাছে পিতৃসত্তার চেয়েও বড় হয়ে ওঠে সামান্য কিছু আর্থিক সংস্থান। আর তাই হয়তো বুকে পাথর রেখে নিজের সন্তানকে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতে বাধ্য হন বাবা।

চমকে ওঠার মতো এমনই ঘটনা ঘটেছে বামশাসিত ত্রিপুরায়। সেখানে অভাবের তাড়নায় নিজের শিশুসন্তানকে মাত্র ২০০ টাকায় বিক্রি করে দিলেন পিতা। আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওই ব্যক্তি নিজের দোষ স্বীকার করার পরেই সামনে এসেছে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি। তবে এবারই প্রথম নয়। এর আগে আরও দু’বার দারিদ্রে কারণে দু’টি পরিবার তাঁদের সন্তান বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিল। দক্ষিণ মহারানিপুরের শরৎচন্দ্র এডিসি গ্রামের বাসিন্দা কর্ণ দেববর্মা।

তেলিয়ামুড়া সাব ডিভিশনের এই বাসিন্দা জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য আট মাসের মেয়েকে মাত্র ২০০ টাকায় বিক্রি করে দেন তিনি। কর্ণ দেববর্মা বলেছেন, ‘পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে গিয়ে আমার সন্তানকে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে দাবিদাওয়া জানালেও আমার শুধুমাত্র দারিদ্রসীমার উপরের রেশন কার্ড (এপিএল) রয়েছে। আমার নিজের কোনও বাড়ি বা শৌচাগার নেই। আমি বাম সরকারের কাছে বাড়ি এবং দারিদ্রসীমার নীচের রেশন কার্ডের (বিপিএল) দাবি জানিয়েছিলাম। আমি অত্যন্ত দরিদ্র। কোনওমতে খড় এবং বাঁশ বেচে সংসার চালাই।’

কর্ণ দেববর্মা জানান, সঠিক সময়ে তাঁর দাবিদাওয়া পূরণ করা হবে বলে রাজনীতিবিদরা তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু কখনও কোনও সাহায্য পাননি তিনি। জানা গিয়েছে, বর্তমানে তাঁর পরিবারে ছ’জন সদস্য রয়েছেন। তাঁরা জঙ্গল থেকে নানান সামগ্রী সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে জীবনধারণ করেন। স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, আদিবাসীদের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তরফে বিভিন্ন প্রকল্পের সূচনা করা হলেও তার কোনও সুবিধাই পায়নি এই পরিবারটি।

সম্প্রী দেববর্মা নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমি গত অনেক বছর ধরে মহারানিপুরের কর্ণ দেববর্মাকে দেখছি। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তাঁর কোনও নিজের বাড়ি নেই। তিনি একাধিকবার বিপিএল কার্ড অথবা একটি বাড়ির জন্য আবেদন জানালেও কিছুই পাননি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ২০০ টাকায় নিজের সন্তানকে বিক্রি করতে বাধ্য হন তিনি।’

এর আগে, গত এপ্রিল মাসের তৃতীয় সপ্তাহে স্বামীর চিকিৎসার খরচ জোটাতে হলদিয়া এডিসি গ্রামের রাঙ্গিয়া টিল্লা নামে এক আদিবাসী মহিলা পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁর সদ্যোজাত ছেলেকে বিক্রি করে দেন। ওই মাসেই রন্নপাতি রিয়াং নামে এক আদিবাসী মহিলা মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে এক অটোচালকের পরিবারের কাছে সন্তানকে বিক্রি করে দেন। যদিও সন্তান বিক্রির ঘটনার কথা মানতে নারাজ রাজ্য সরকার।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে শিশু সন্তানকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি নিয়ে বাম সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র সুব্রত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, আদিবাসীরা দারিদ্রে ধুঁকছেন। কিন্তু যাঁরা সিপিএমকে সমর্থন করেন, শুধুমাত্র তাঁদেরকেই বিপিএল কার্ড দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা থেকেই তা প্রমাণিত।


*

*

Top