‘রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ার ধকল সইছে বাংলাদেশ, মিয়ানমারকে চাপ দিন’

PM-Hasina23

রোহিঙ্গা সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ, টেকসই এবং দ্রুত সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিরে নিতে কার‌্যকর ও বাস্তব কোনো কিছুই করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেলে লন্ডনে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও মানবিক ইস্যুতে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।

আয়োজিক সংস্থাটির সদর দপ্তরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী রয়টার্সের একজন সাংবাদিকসহ অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন, প্রশ্নোত্তর পর্বেও রোহিঙ্গা ইস্যূটি গুরুত্ব পায়।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বিতাড়িত বিপুল সংখ্যক নিপীড়িত রোহিঙ্গা মানুষের আশ্রয় নেওয়ার ধকল সইছে বাংলাদেশ।

‘আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা বর্তমানে ১১ লাখ ছাড়িয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি।’

রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি নিজে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে তাদের দুর্দশা দেখেছি। বিশ্ব নেতারাও এ বিষয়ে অনেক কিছু করেছেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি, চুক্তি হয়েছে এবং তারা সম্মত হয়েছে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে মিয়ানমার তাদের নাগরিক উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে কার‌্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। সেটাই সমস্যা।

সম্প্রতি একটি রোহিঙ্গা পরিবারকে মিয়ানমারের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে রয়টার্সে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্ডার লাইনে, জিরো পয়েন্টে অনেক রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু রয়েছে। মিয়ানমার সেখান থেকে একটা পরিবারের অর্ধেক নিয়েছে, ক্যাম্প থেকে নেয়নি। এসব পরিবারের সদস্য ক্যাম্পেও রয়েছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার সম্ভবত বিশ্বকে দেখাতে চাইছে তারা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে। এটা ভালো লক্ষণ। কিন্তু একটা পরিবার কেন? আমরা তাদের ৮ হাজার পরিবারের তালিকা দিয়েছি, কিন্তু তারা তাদের ফিরিয়ে নেয়নি। কারণ তারা দেখাতে চায়, এটা ভালো, তাদেরউচিত রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেয়া পুরোদমে শুরু করা।

শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু মিয়ানমার আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। আমাদের পররাষ্ট্র নীতি হচ্ছে সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। এজন্য আমরা তাদের সঙ্গে বন্ধু ভাবাপন্ন ভাবে আলোচনা করছি। সম্প্রতি মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছে। মিয়ানমারের প্রতিবেশি পাঁচটি দেশ চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, লাওস, বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। আমরা এসব দেশের সঙ্গেও আমরা আলোচনা করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন আলোচনা করছি তখন মিয়ানমার দেখাচ্ছে তারা রোহিঙ্গাদের ফিরত নেবে। তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলছে, আগ্রহ দেখাচ্ছে কিন্তু বাস্তবে কিছুই করছে না। এজন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো চাপ তৈরি করতে হবে মিয়ানমারের ওপর। যাতে মিয়ানমার শিগগির তাদের রোহিঙ্গা নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়।

বর্তমান বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’র কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের বৈদেশিক নীতিই হচ্ছে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক শক্তিশালীকরণ; বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে বাংলাদেশের ক্ষতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, সবচেয়ে কম দূষণকারী হওয়া সত্ত্বেও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ আমাদেরও মোকাবেলা করতে হচ্ছে। সমুদ্র স্থর বাড়লে আমাদের লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়বে। তাই পৃথিবী, জীব বৈচিত্র্য ও জলবায়ুর পরিবর্তনকে রক্ষা করার দায়িত্ব বিশ্ব সম্প্রদায়কে ভাগ করে নিতে হবে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট নির্বাহী পরিচালক অ্যালেক্স থিয়ের।


*

*

Top