মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি অলির

image-77673

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে যৌক্তিক উল্লেখ করে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, ‘কোটা বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু যারা আন্দোলন করছে তারা কোটা সংস্কারের কথা বলেছে। কিন্তু সরকার বাতিল করে দিয়েছে। এখন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারের উচিত হবে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সমস্যার সমাধান করা। মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি করছি।

সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিও দাবি করেছেন অলি আহমদ।

মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক এলডিপির প্রধান এ দাবি জানান।

একইসঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারকে আলোচনায় বসারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের বছরে যেন সহিংসতা না ছড়ায়, সেজন্য অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা সরকারেরই দায়িত্ব।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বিএনপি জোটের দূরত্ব রয়েছে, অন্যদিকে ভারতের ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আপনার ভালো সম্পর্ক রয়েছে এক্ষেত্রে জোট থেকে দায়িত্ব পেলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করবেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অলি আহমেদ বলেন, ‘বন্ধুত্ব যে কারো সঙ্গে থাকতে পারে, তার মানে এই না যে, কেউ কাউকে টাকা দেবে। জোটে আছি। প্রয়োজন হলে জোটের যে কোনও দায়িত্ব পালন করবো এবং সেটা করতে আমি প্রস্তুত।’

বিএনপি জোট ভাঙার গুঞ্জন নিয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভাই-বোনের মধ্যে ঝগড়া হতেই পারে। ভাই-বোনের মধ্যে কি ঝগড়া হয় না? কষ্ট মনে থাকলে দুরত্ব বাড়ে। আর বের করে ফেললে ভালোবাসা বাড়ে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারি দল নির্বাচনী জনসভা করলেও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে সভা সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। সরকারের উচিত ঘোষণা দেয়া নির্বাচনের আগে সবাই যাতে সভা সমাবেশ করতে পারে। একটি রাজনৈতিক দল পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সভা সমাবেশ করবে এটা হতে পারে না।

বিএনপি সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘২০১৮ সাল নির্বাচনের বছর, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশ যেন অশান্ত না হয়। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। একজন রাজনীতিবিদ অন্যকে সম্মান করবে এটা চাই।’

খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে দাবি করে বিএনপির সাবেক এই নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন কারাগারে ছিলেন তখন বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, খালেদা জিয়ার সু-চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে ব্যবস্থা করা উচিত।’

সংক্ষিপ্ত এ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম প্রমুখ।


*

*

Top