ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করতে বাংলাদেশে থাই-কন্যা

natore-picture

টিবিটি জাতীয়: ভালোবাসা যে কোন জাত, পাত, ভৌগোলিক সীমারেখা মানে নয় তা আবারও প্রমাণিত হলো। এবার ভালোবাসার টানে থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে এসে বিয়ে করলেন সুবাতা ওম ওরফে সুপুত্তো নামের ৩৬ বছরের ওই থাই কন্যা।গতকাল বুধবার নাটোর আদালতে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাহাগোলা গ্রামের ২২ বছরের যুবক মোবাইল মেকানিক অনিক খানকে বিয়ে করে সুপুত্তো।সুবাতা ওম সুপুত্তো জানান, পড়াশোনা শেষ করে তিনি প্রথমে ব্যাংকে চাকরি করতেন। সেটা ছেড়ে দিয়ে এখন ফাস্ট ফুডের ব্যবসা করেন। দোকানে বসে ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশের ২২ বছরের যুবক অনিক খানকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। প্রথমে ফেসবুকে চ্যাটিং করে দুজনের মধ্যে কথা আদান প্রদান হয়েছে। পরে ফোনের মাধ্যমে কথাবার্তা চলতে থাকে। এভাবেই তারা পরস্পরের প্রেমে পড়েন।

তিনি জানান, এর আগেও একবার বাংলাদেশে এসেছিলেন সুবাতা ওম। ফেব্রুয়ারি মাসে বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে ওম প্রথমবার ৫ দিনের ভিসায় বাংলাদেশে আসেন।  সে সময় অনিক তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। এসময় তাকে (অনিককে) দেখে আরও ভাল লেগে যায়। অনিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে নিজেই বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু অনিকের পরিবারের লোকজন তার প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। ফলে তাকে না পাওয়ার বেদনা নিয়ে ফিরে  যান তিনি।সুবাতা ওম বলেন, ব্যর্থ হলেও অনিককে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন ছেড়ে দেইনি। চলতি মাসের প্রথম দিকে আবার ছুটে আসি এদেশে। এবার অনিকের পারিবারিক সম্মতি আদায়েও সফল হয়েছি। তবে বিষয়টা খুব সহজ ছিল না। অনিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে-পায়ে ধরেছি। কান্নাকাটিও করেছি, উপবাস করেছি।

 অনিকের পরিবারের সম্মতি পেয়ে দেশে ফেরার একদিন আগে ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়েটা সম্পন্ন  করতে পেরে আমি আনন্দিত। নাম নিয়েছি সুফিয়া খাতুন। আমার বিশ্বাস, অনিক আমার জীবনে একমাত্র সঙ্গী হয়ে থাকবে।নাটোরের বিবাহ রেজিষ্টার আমিনুল ইসলাম টিপু বিয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইসলামী ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের সময় মেয়েটির নাম সুফিয়া খাতুন লেখা হয়।অনিক খান জানান, দোকানে বসে অলস সময় কাটাতে গিয়ে ফেসবুকে থাই কন্যার সাথে পরিচয়। তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ না রেখে থাকতে পারেন না। ওম আমাকে একটা ভালো মোবাইল ফোন সেট উপহার দিয়েছে। দুজনের ফোনেই সব সময় ইন্টারনেট সংযোগ থাকে। আমরা ভিডিও কল করে দীর্ঘ সময় কথা বলি। এভাবেই পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলেছি। ওম এখন আমার জীবনের একটি অংশ হয়ে গেছে। আমি ওকে নিয়ে সারা জীবন কাটাতে চাই।এদিকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে হচ্ছে ওমকে।


*

*

Top