প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে নবিপ্রবি’তে শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

29433075_596531844019658_7857309292670484480_o

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়ে প্রধান ফটকে তালা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকসহ একাডেমিক ভবন-১, একাডেমিক ভবন-২ এবং লাইব্রেরী ভবনে তালা ঝুলিয়ে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষা বিভাগ ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থী আজগর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতিনিয়ত প্রোক্টর স্যার শিক্ষার্থীদের হয়রানি করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্দোষ শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করেন। কোনো ন্যায্য দাবি নিয়ে গেলে বহিষ্কারের হুমকি দেন। তাই আমরা প্রোক্টরের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি।

মেয়েদের সাথে বাজে আচরণের অভিযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয় এগ্রিকালচার বিভাগ ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রিতি জুফসি বলেন, গতকাল ( ২০ মার্চ) আমরা আমাদের এক সহপাঠীকে বহিষ্কারের বিষয়ে কথা বলতে গেলে প্রোক্টর স্যার আমাদের সাথে বাজে আচরণ করে। আমাদের ওই সহপাঠী তার দুইদিন আগে থেকে ক্যাম্পাসে ছিলনা। একজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে না থেকেও বহিষ্কার হওয়াটা মেনে নেওয়া যায়না।

শিক্ষার্থীরা জানায় প্রোক্টরের পদত্যাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন।

এদিকে বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্র সাহা দাবি করেন, তিনি ৩ মার্চ সকাল থেকে রংপুর ছিলেন। এক বড় ভাই মুঠোফোনে তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানিয়েছেন। খবরটি শুনে তিনি হতবাক হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মুশফিকুর রহমানের সাথে আলাপ কালে তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, গতকাল শিক্ষার্থীরা আমার সাথে দেখা করার জন্য সময় চেয়ে ছিল। আমি তাদের বিকেল পাঁচটায় সময় দিই। কিন্তু তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে এসেছিল। তখন আমি ক্লাস রুমে ছিলাম। তারা ক্লাস রুমের দরজা খুলে আমার সাথে কথা বলতে চেয়েছিল। আমি তাদের কাছে পাঁচ মিনিট সময় চাই যাতে ক্লাসটা শেষ করতে পারি। কিন্তু তারা বলল তারা এখনি কথা বলতে চায়। তারপর দু-এক মিনিট যাওয়ার পরই একটা বিকট শব্দ শুনি, এরপর আমি ক্লাস রুম থেকে বের হয়ে তাদের কে জিজ্ঞেস করলাম, কি হয়েছে, দরজায় আঘাত করা হয়েছে কেন? তারা বলল তারা কিছু জানে না। এরপর আমি একটা ইট আবিষ্কার করি কিন্তু তারা তা অস্বীকার করে। এবং তারা বলতে শুরু করে যে,গত ৪ঠা মার্চ যে সাতজন কে বহিষ্কার করা হয়েছে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে,তাদের কে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমি বললাম, সেই প্রশ্নের সমাধান করার ক্ষেত্রে আমার কোন ইখতিয়ার নেই। আমি আরো বলেছি, তাদের কে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে,আত্নপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে বলো যে,আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগটা নেওয়ার জন্য।তারা বলল-আগামীকাল বিকালের মধ্যে যদি বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা না হয় তাহলে ক্যাম্পাসে যে কোন অস্থিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হলে তার সব দায়-দায়িত্ব প্রক্টর হিসেবে আপনাকেই নিতে হবে। আমি বললাম, আমি প্রশাসন নয়, প্রশাসনের অংশ। আমি তোমাদের কথাগুলো উপাচার্যের কাছে উপস্থাপন করবো।

এরপর একাডেমীক ভবন-২ এর চতুর্থ তলায় ইংরেজী বিভাগে শিক্ষার্থীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। পাশেই ক্লাস হচ্ছিল। তাদের আচরণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিব্রতবোধ করে। তখনি আমি উপাচার্য স্যারকে বিষয়টা জানিয়েছি। আমি স্যারকে বলেছি, একাডেমিক কার্যক্রম করতে গিয়ে প্রক্টর হিসেবে আমার সাথে যে আচরণ করা হয়েছে, সেটা আমার একাডেমিক কাজের ব্যাঘাত ঘটেছে। ক্লাস রুমে আমাকে ডিস্টার্ব করা হয়েছে সেই জন্যই আমি এক্ষুনী পদত্যাগ পত্র জমা দিচ্ছি। আপনি আমাকে এখনী রিলিজ করে দেন। এরপর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ও উপাচার্য বরাবর আমার রিজাইন লেটার পাঠিয়ে দিয়েছি।

পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়ার কারণ সংক্রান্ত বিষয়ে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আমার পারিবারিক কারনেই পদত্যাগ করেছি। আমার ছেলে অসুস্থ,ল। কাল কে তার জ্বর ছিল। ব্যস্ততার কারনে আমি আমার পরিবার কেও সময় দিতে পারছিনা। এটা আমার জন্য একটা বাড়তি চাপ তাই আমি পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছি।

এদিকে ধর্মঘটের কারণে আজ সকাল থেকে সকল শ্রেণী কার্যক্রম, পরিক্ষা ও গবেষনা বিষয়ক প্রজেক্টের কাজ বন্ধ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ৪ মার্চ শিক্ষকদের সঙ্গে অসাদাচরণের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

আমিনুল মহিম
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি


*

*

Top