পিত্তথলির পাথর : কারণ ও চিকিৎসা

Gall-bladder-stone

টিবিটি স্বাস্থ্য-কথাঃ পিত্তথলি কিংবা পিত্তনালীর মধ্যে পাথর তৈরি হওয়া কিংবা পাথরের উপস্থিতি ও তৎসঙ্গে কিছু উপসর্গের সম্মিলিত অবস্থাকেই পিত্ত পাথুরি অসুখ বলা হয়।

কোনো উপসর্গ ছাড়াই পাথরের উপস্থিতি কিংবা তীব্র পেটে ব্যথা নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পিত্ত পাথুরি রোগী হাসপাতালে আসতে পারেন। শরীরে বেশ কিছু অঙ্গে পাথুরি রোগ হয়ে থাকে, তার মধ্যে পিত্ত পাথুরি অসুখ অন্যতম। উপসর্গবিহীন রোগের ক্ষেত্রে সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে পিত্তথলিতে পাথরের উপস্থিতি নির্র্ণিত হয়। লিখেছেন অধ্যাপক ডা: খাদেমুল ইসলাম

একসময়ে এরকম প্রবাদ চালু ছিল- চল্লিশ কিংবা চল্লিশোর্ধ বয়সের ফর্সা, স্থূলকায় মহিলা যিনি কয়েক সন্তানের মা- এমন মহিলারাই সাধারণত পিত্ত পাথুরি অসুখে ভুগে থাকেন। বর্তমানে এ প্রবাদের গুরুত্ব নেই। তবে এ কথা ঠিক, মহিলাদের মধ্যেই এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। এখন অসংখ্য তরুণ পুরুষ ও নারীর মধ্যে পিত্ত পাথুরির সমস্যা দেখা যাচ্ছে। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকে।

একসময় মূলত পাশ্চাত্যের অসুখ বলে মনে করা হলেও বর্তমানে বিশ্বজুড়েই এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। বিশ্বায়নের প্রভাব ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন সম্ভবত প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির কারণ। অনেক সময় শিশু বা কিশোর-কিশোরীদেরও পিত্ত পাথুরি অসুখ দেখা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে পিত্তথলির জন্মগত ত্রুটি কিংবা লোহিত কণিকা ভেঙে যাওয়ার কারণে জন্ডিস পাথর সৃষ্টি হওয়ার জন্য দায়ী থাকে।

পিত্ত পাথুরি অসুখের কারণ
পিত্ত পাথরের উপাদান পিত্তের মধ্যেই বিদ্যমান। এর অন্যতম উপাদান হলো কোলেস্টেরল। কোলেস্টেরলকে পিত্তের মধ্যে দ্রবীভূত করে রাখে পিত্ত লবণ। স্বাভাবিক অবস্থায় এই দুইয়ের আনুপাতিক হার একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে। যখন কোনো কারণে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যায় কিংবা পিত্ত লবণের পরিমাণ কমে যায়, সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল দ্রবীভূত অবস্থা থেকে বেরিয়ে দানা বাঁধে এবং ক্রমান্বয়ে পাথরে পরিণত হয়। এর সাথে যুক্ত হয় ক্যালসিয়াম, ফসফেট ও বিলিরুবিন। অনেক সময় পিত্তথলিতে সংক্রমণ হয়ে ব্যকটেরিয়া ও পিত্তথলির আন্ত-আবরণীর স্থলিত কোষ একত্র হয়ে একটি দানাদার কণার সৃষ্টি করে, যাকে কেন্দ্র করে কোলেস্টেরল জমতে থাকে এবং এভাবে ক্রমান্বয়ে পাথরের সৃষ্টি হয়। তা ছাড়া দীর্ঘ সময় পিত্তথলিতে পিত্ত জমা থাকলে কিংবা অন্ত্রের মধ্যে পিত্ত নিঃসরণ শ্লথ হলে, যেমনটা গর্ভাবস্থায় হয়ে থাকে- পাথর সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। সম্ভবত মহিলাদের ক্ষেত্রে এই কারণটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। যদিও কোলেস্টেরল পিত্তপাথরের অন্যতম উপাদান, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে। তবে প্রায়ই দেখা যায়, যকৃতের মধ্যে চর্বির আধিক্য দীর্ঘমেয়াদি যকৃতের প্রদাহ রোগীদের পিত্তের উপাদানে পরিবর্তনের কারণে পিত্ত পাথুরি অসুখ হয়ে থাকে।

পিত্ত পাথুরি অসুখের উপসর্গ
আগেই বলা হয়েছে, অনেকের ক্ষেত্রে আপাত কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। যেকোনো কারণে পেটের আলট্রাসনোগ্রাফির সময় পিত্তপাথর চিহ্নিত হয়। অনেক রোগী ক্ষুধা-মন্দা, অল্প খাবারের পর পেট ভর্তি হয়ে যাওয়া অনুভূত, পেটে অতিরিক্ত গ্যাসের জন্য অস্বস্তি ইত্যাদি উপসর্গের অভিযোগ করেন। তবে এসব উপসর্গের জন্য পিত্তথলিকে এককভাবে দায়ী করা ঠিক নয়। কেননা আরো অনেক কারণে হজম-প্রক্রিয়ায় সমস্যার জন্য এসব উপসর্গ হতে পারে। হঠাৎ করে মাঝারি থেকে তীব্র পেট ব্যথা, বিশেষ করে উপর পেটের ডান দিকে ব্যথা এবং সেইসাথে বমি কিংবা বমিভাব ও অসুস্থবোধ করা পিত্ত পাথুরির জন্য হয়ে থাকে। এই ব্যথা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। কয়েক ঘণ্টা পর হঠাৎ করে ব্যথা চলে গেলে এ অবস্থাকে বলা হয় স্বল্পমেয়াদি তীব্র পিত্ত বেদনা।

পিত্তপাথর পিত্তথলির বহির্গমন পথে সাময়িক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে পিত্তথলি সেটাকে স্থানচ্যুত করার জন্য যে চাপ সৃষ্টি করে তা-ই প্রতিফলিত হয় তীব্র ব্যথা হিসেবে। পাথর স্থানচ্যুত হয়ে বহির্গমন পথ খোলাসা হলে তাৎক্ষণিক ব্যথা চলে যায়। পাথর স্থানচ্যুত না হয়ে স্থায়ীভাবে আটকে গেলে পিত্তথলি ফুলে যায়, পীড়িত পিত্তথলিতে সংক্রমণ ঘটে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যাকে বলা হয় আকস্মিক পিত্তপ্রদাহ। এ ক্ষেত্রে তীব্র ব্যথা পরিবর্তিত হয়ে মাঝারি রকমের স্থায়ী ব্যথায় রূপ নেয়। এ অবস্থায় রোগীর পেট পরীক্ষা করে ডান দিকের উপর পেটের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি ও মাংসপেশীর দৃঢ়তা পরিলক্ষিত হয়। কয়েক দফায় এ রকম উপসর্গ হলে দীর্ঘমেয়াদি পিত্তথলির প্রদাহ সৃষ্টি হয়। Acute cholecystitis-এর সময় জ্বর, বমি কিংবা বমিভাব এবং হাল্কা জন্ডিস দেখা দিতে পারে।

পিত্ত পাথুরি অসুখের জটিলতা
স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় রকম জটিলতা হতে পারে। Acute cholecystitis-এ আক্রান্ত হলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ ও প্রদাহ এত মারাত্মক আকার ধারণ করে যে, রোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এন্টিবায়োটিকস এ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের বেলায় এই সম্ভাবনা বেশি। এ ক্ষেত্রে পিত্তথলির ভেতরে পুঁজের সৃষ্টি হয়, এমনকি পিত্তথলিতে পচন ধরতে পারে। পিত্তনালীতে পাথর থাকলে পিত্ত নিঃসরণে বাধার কারণে প্রতিবন্ধক জন্ডিস এবং পিত্তনালীর প্রদাহ হয়ে থাকে। পিত্তনালীর পাথর পিত্তনালী ও অগ্ন্যাশয়ের নালীর সংযোগ স্থলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে অগ্নাশয়ে তীব্র প্রদাহের মতো জটিল অসুখের সৃষ্টি হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয়ের তীব্র প্রদাহ নিয়ে পিত্ত পাথুরি রোগী প্রথমবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আসেন- যা একটি মারাত্মক ব্যাধি।

দীর্ঘমেয়াদি জটিলতাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পিত্তনালীর ক্যান্সার। অর্থাৎ দীর্ঘদিন পিত্তথলিতে পাথরের উপস্থিতি পিত্তথলির মধ্যে ক্রমান্বয়ে কিছু পরিবর্তন আনে, যা একসময় ক্যান্সারে রূপ নেয়। আমার ৩৪ বছরের অভিজ্ঞতায় এমন একজন পিত্তথলির ক্যান্সারের রোগী পাইনি; যার ক্যান্সারের সাথে পাথরের উপস্থিতি ছিল না।

রোগ নির্ণয়
আধুনিক মেডিক্যাল ইমেজিং বিশেষত আলট্রাসনোগ্রাফি পিত্ত পাথুরি শনাক্তকরণে অত্যন্ত সময়োপযোগী পরীক্ষা। পিত্ত পাথুরি সমস্যা সন্দেহ হলেই পেটের আলট্র্রাসনোগ্রাফি করা অত্যন্ত যৌক্তিক। আলট্রাসনোগ্রাফির সুবিধা হলো- রোগীর অসুস্থতার যেকোনো পর্যায়ে এ পরীক্ষা করা যায় এবং এটি একটি সহজলভ্য, সুলভ ও রোগীবান্ধব পরীক্ষা; যা রোগীর শরীরে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না। আরেকটি সুবিধা হলো- রোগীকে ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের সময় নিয়মিত আলট্র্রাসনোগ্রাফি করে পিত্তথলির অবস্থার পরিবর্তন, উন্নতি বা অবনতি অতি সহজেই পরিমাপ করা যায়। পিত্ত পাথুরি নির্ণয়ে আলট্র্রাসনোগ্রাফি সিটি স্ক্যান কিংবা এমআরআই থেকেও অনেক সময় শ্রেয় বলে বিবেচিত হয়।

চিকিৎসা
নিশ্চিতভাবে পিত্ত পাথুরি অসুখ নির্ণিত হলে সর্বজন স্বীকৃত চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাথরসহ পিত্তথলি অপসারণ। বিবেচ্য বিষয় হলো- কখন ও কী পদ্ধতিতে পিত্তথলি অপসারণ করা শ্রেয়। সাধারণত Acute cholecystitis হলে জরুরি অবস্থাতে ওষুধ প্রয়োগে চিকিৎসা দেয়া হয় এবং ৯৫ শতাংশেরও বেশি রোগী সেরে উঠেন এবং চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর আধুনিক ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতিতে সহজেই পিত্তথলি অপসারণ করা যায়। ওষুধে চিকিৎসায় উন্নতি না হলে কিংবা উপরে উল্লিখিত জটিলতা দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করতে হয়। শল্যবিদ অভিজ্ঞ হলে এ ক্ষেত্রেও ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব। তবে গুরুতর অসুস্থ রোগী হলে সনাতন পদ্ধতিতে পেট কেটে অস্ত্রোপচার করাই শ্রেয়। বর্তমান সময়ে জটিলতাবিহীন রোগীদের ক্ষেত্রে ল্যাপারোস্কপিক কলিসিস্টেকটমি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত পদ্ধতি। এই পদ্ধতির সুবিধা অনেক। সেগুলো হলো- পেট কাটা হয় না বলে পেট কাটার জটিলতা নেই। কয়েকটি ছোট ছিদ্র করে তার একটির মধ্য দিয়ে দূরবীক্ষণ যন্ত্র ঢুকিয়ে সংযুক্ত সিসিডি ক্যামেরার মাধ্যমে টেলিভিশনের পর্দায় ছবি দেখে অন্য ছিদ্রপথে বিশেষ ধরনের যন্ত্র ঢুকিয়ে পাথরসহ পিত্তথলি অপসারণ করা হয়। একজন দক্ষ শল্যবিদ মূল অপারেশন পর্ব ২০-২৫ মিনিটে সমাধা করতে পারেন। যেহেতু পেটের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়া করা হয় না এবং বাইরের পরিবেশে উন্মুক্ত করা হয় না, তাই অস্ত্রোপচারের তিন ঘণ্টা পরই রোগীকে মুখে খাবার দেয়া যায়। ছিদ্র স্থানগুলোতে বাহ্যিক কোনো সেলাই নিতে হয় না, সামান্য ব্যথা অনুভূত হয়। ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতিতে সকালে অস্ত্রোপচারের পর বিকেলেই রোগী হাসপাতাল ত্যাগ করতে পারেন এবং কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরে যেতে পারেন।

অনেকের ধারণা, এ পদ্ধতিতে যেহেতু পেট কাটতে হয় না, তাই বেহুশ না করেই শুধু ছিদ্র করার স্থান অবশ করে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব। এ ধারণা সঠিক নয়। Open choleceystectomy-এর মতো ল্যাপারোস্কপিক কলিসিস্টেকটমিতে পূর্ণ বেহুশ করে অপারেশন করা হয়। যদি একই সঙ্গে পিত্তথলি ও পিত্তনালীতে পাথর থাকে সে ক্ষেত্রে আধুনিক পদ্ধতিতে উভয় সমস্যার সমাধান করা হয় পেট না কেটেই। প্রথমত গলা দিয়ে Endoscopoe ঢুকিয়ে ERCP-এর মাধ্যমে পিত্তনালীর পাথর অপসারণ করে একই সময়ে অথবা দু-একদিন পর ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে পিত্তথলি অপসারণ করা হয়। কাজেই সনাতন Open choleceystectomy এখন কালেভদ্রে করার প্রয়োজন পড়ে এবং ল্যাপারোস্কপিক কলিসিস্টেকটমি এখন বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে স্বর্ণ মান হিসেবে বিশ্বজুড়ে বিবেচিত।

উপসর্গবিহীন পিত্ত পাথুরির জন্য কী করণীয়

অপ্রাসঙ্গিকভাবে নির্ণিত পিত্ত পাথুরি যা উপসর্গবিহীন, এ ক্ষেত্রে কী করণীয় তা নিয়ে অনেকে পরামর্শ চেয়ে থাকেন। কেবল অতীব বৃদ্ধ, বার্ধক্যজনিত সমস্যায় আক্রান্ত এবং বেহুশ করা ও অস্ত্রোপচার ঝুঁকিপূর্ণ এরূপ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার না করাই শ্রেয়। কিন্তু পিত্তথলিতে ছোট ছোট অনেক পাথর ৪০ বছরের কম বয়স, ডায়েবেটিসে আক্রান্ত এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে পিত্তথলি অপসারণ অবশ্যই করণীয়- কেননা এ ধরনের ব্যক্তিদের পিত্ত পাথুরির জটিলতায় ভোগার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

সন্তান ধারণক্ষম মহিলাদের, বিশেষত যারা গর্ববতী সন্তান গ্রহণে আগ্রহী, তাদের অবশ্যই পরবর্তী গর্ভধারণের আগেই অস্ত্রোপচার করে পিত্তথলি অপসারণ করে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তা না হলে গর্ভকালীন সমস্যা হওয়াই স্বাভাবিক, যা মা কিংবা গর্ভজাত সন্তান উভয়ের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিতে পারে।

গর্ভধারণকালীন পিত্ত পাথুরি সম্পর্কিত সমস্যা
গর্ভধারণকালীন উপসর্গ প্রণয়নকারী পিত্ত পাথুরি কিংবা গর্ভাবস্থায় পর্যবেক্ষণের সময় নির্ণিত পিত্ত পাথুরি অনেক সময় রোগী এবং চিকিৎসক উভয়কে চিন্তিত করে ফেলে। গর্ভকালীন পিত্ত পাথুরির প্রদাহ দেখা দিলে অবশ্যই ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা দিতে হবে। তবে এমন ওষুধ বেছে নিতে হবে, যা গর্ভজাত শিশুর কোনো ক্ষতি না করে। গর্ভাবস্থায় ২০ সপ্তাহের মধ্যে হলে ল্যাপারোস্কপিক কলিসিস্টেকটমি করাই শ্রেয়। প্রথম আট সপ্তাহের মধ্যে চিহ্নিত হলে আট থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে অস্ত্রোপচার করা নিরাপদ। ২০ সপ্তাহের পর চিহ্নিত হলে এবং উপসর্গ না থাকলে পর্র্যবেক্ষণ ও তেল-জাতীয় খাবার পরিহার উত্তম। কিন্তু ২০ সপ্তাহের পর উপসর্গ সৃষ্টিকারী পিত্ত পাথর ওষুধে চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ না হলে সনাতন পদ্ধতিতে পেট কেটে অস্ত্রোপচার করাই নিরাপদ। যদিও কিছু ক্ষেত্রে গর্ভপাত কিংবা জরায়ুর মধ্যে শিশু মারা যেতে পারে।
উপসংহার

যেহেতু পিত্ত পাথুরির আধুনিক চিকিৎসা সহজ ও নিরাপদ, তাই এই সমস্যা চিহ্নিত হলে বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে পিত্তথলি অপসারণ (Laparoscopic cholcecystectomy) সুবিধাজনক সময়ে দক্ষ এবং অভিজ্ঞ শল্যবিদ ও ভালো হাসপাতালে করে নেয়াই যুক্তসঙ্গত এবং বুদ্ধিমানের কাজ।
লেখক : জেনারেল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জন, ল্যাবএইড হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা।


*

*

Top