নড়াইলবাসীর স্বপ্ন পূরণে চালু হচ্ছে চিত্রা সেতু

2017-0

টিবিটি সারাদেশ:  নড়াইলবাসীর প্রাণের দাবি, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল চিত্রা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হতে চলেছে। আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। নির্ধারিত সময়ের আগেই স্বপ্নের চিত্রা সেতু দিয়ে চলাচল শুরু হবে। দুর্ভোগ লাঘব হবে অন্তত ৫ লাখ মানুষের। জানাগেছে, নড়াইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত চিত্রানদী আর চিত্রানদীর কারণে সদর উপজেলার আউড়িয়া, চন্ডিবরপুর, বাঁশগ্রাম, ভদ্রবিলা ইউনিয়ন এবং জেলা শহর থেকে কালিয়া ও লোহাগড়া উপজেলার সাধারণ জনগণকে শহরে আসতে হয় প্রতিদিনই। আসা-যাওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকারও হতে হয় ঘাটে। নদী পার হয়ে আসতে হয় জেলার সকল অফিস, আদালত, স্কুল-কলেজসহ প্রধান কার্যালয়গুলোতে। যার কারণে জেলাবাসীর প্রানের দাবিছিল পুরাতন ফেরিঘাটে চিত্রানদীর উপর সেতু নির্মাণের। সেতু নির্মাণের জন্য সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, আলোচনা সভাসহ নানান কর্মসূচি পালিত হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নড়াইলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেতু নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

নড়াইল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল শহরের পুরোনো ফেরিঘাটে ২৮ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল। নির্মাণের সময়সীমা ২০১৭ সালের জুন পর্যন্তু। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ১৪১ মিটার। এর বাইরে দুই পাশে ফ্লাইওভারের মতো দেখতে ভায়াডাক্টের দৈর্ঘ্য ২৩৭ দশমিক ৫০ মিটার। সেতুর প্রস্থ ৫ দশমিক ৪৬ মিটার বা ১৮ ফুট। পানির স্তর থেকে সেতুর উচ্চতা ৭ মিটার। দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক আছে ৪৩১ মিটার। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমবিইএল-ইউডিসি (জেভি) সেতুটি নির্মাণ করছে। ভায়াডাক্ট দেখতে অনেকটাই ফ্লাইওভারের মতো হওয়ায় সেতুটি নড়াইলের শোভাবর্ধন করবে। সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষের মধ্যদিয়ে কয়েকলাখ মানুষের দুভোর্গ লাঘব হবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

নড়াইল কন্ঠের সম্পাদক ও সুশাসনের জন্য প্রচার অভিযানের (সুপ্র) সাধারণ সম্পাদক কাজী হাফিজুর রহমান বলেন, প্রায় একযুগ ধরে এই সেতুর কাজ বাস্তবায়নের জন্য ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও এলাকার সাধারণ লোকজন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। সেতু না থাকায় ৮ কিলোমিটার ঘুরে নড়াইল শহরে আসতে হয়। এতে করে জেলার তিন উপজেলার শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষের দুর্ভোগ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক। এখন আর দুর্ভোগ পোহাতে হবে না সহজেই চলাফেরা করতে পারব আমরা।নড়াইলের আইনজীবী এডভোকেট তারিকুজ্জামান লিটু বলেন, সেতুটি পার হলেই নড়াইল আদালত, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নড়াইলের মূল শহর। তাই এতদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সব শ্রেণির মানুষের। সেতুটি উন্মুক্ত হবে আমাদের দুর্ভোগ লাঘব হবে।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আবিদুর রহমান বলেন, আমাদের আন্তরিকতায় নির্ধারিত মেয়াদের আগেই শেষ হচ্ছে এই সেতুর কাজ। আগামী জুন পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শেষ করার সময় থাকলেও নির্ধাতির সময়ের পূর্বেই জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কালাম হোসেনের বাড়িও নড়াইলে। তাই নড়াইলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মুখে বাস্তবায়ন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর কাজে রয়েছে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা। আগামী ২৬ মার্চে সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি। নড়াইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আবু ছায়েদ বলেন, চিত্রাসেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই সেতুটির কাজ শেষ হচ্ছে। ইতিমধ্যে চূড়ান্ত ঢালায় সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই জনসাধারণ এই সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করতে পারবে।জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ বলেন, আগামী এপ্রিল মাসে চিত্রা সেতুটি চূড়ান্তভাবে খুলে দেয়া সম্ভব হবে। শেখ রাসেলের নামে এই সেতুর নামকরণ করার জন্য নাম ব্যবহারের জন্য অনুমতি পাওয়া গেছে। সেতুটির নামকরণ শেখ রাসেল সেতু’ নামে করার জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে আশা করছি বিষয়টি দ্রুতই সমাধান হবে। বাসস


*

*

Top